Home Economics বাড়ি কেনা সহজ হবে নাকি সংকট বাড়বে? — লেবারের নতুন হাউজিং ট্যাক্স...

বাড়ি কেনা সহজ হবে নাকি সংকট বাড়বে? — লেবারের নতুন হাউজিং ট্যাক্স সংস্কারে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে বিতর্ক

30
0

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese-এর লেবার সরকার বিনিয়োগ সম্পত্তির করনীতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকার বলছে এই সংস্কার সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা সহজ করবে, কিন্তু সমালোচকদের আশঙ্কা—এতে নতুন আবাসন বিনিয়োগ কমে গিয়ে সংকট আরও বাড়তে পারে।

ফেডারেল বাজেটে ট্রেজারার Jim Chalmers ঘোষণা করেন যে বহুদিনের ৫০ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) ডিসকাউন্ট তুলে দিয়ে মুদ্রাস্ফীতিভিত্তিক নতুন কর ব্যবস্থা চালু করা হবে।

এছাড়া ভবিষ্যতে শুধুমাত্র নতুন নির্মিত বাড়িতে বিনিয়োগ করলেই বিনিয়োগকারীরা নেগেটিভ গিয়ারিং কর-সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ পুরোনো বাড়ি কিনে আগের মতো কর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে।

লেবার সরকারের দাবি, দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তিমূল্যের কারণে যারা প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে পারছেন না—বিশেষ করে তরুণ অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য—এই পরিবর্তন বাজারে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এসব সংস্কারের ফলে আগামী বছরগুলোতে অতিরিক্ত প্রায় ৭৫ হাজার প্রথমবারের ক্রেতা আবাসন বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন।

আবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো এই ঘোষণাকে সাম্প্রতিক দশকের অন্যতম বড় আবাসন নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

Everybody’s Home-এর মুখপাত্র Maiy Azize বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকার বিনিয়োগকারীদের কর-সুবিধা দিয়ে এসেছে, অথচ সাশ্রয়ী আবাসনের সংকট ক্রমেই খারাপ হয়েছে।

তার মতে, বিনিয়োগকারীদের কর সুবিধা কমালে বাড়ির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ধীর হতে পারে এবং যারা বহুদিন ধরে ডিপোজিট জমাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

Maiy Azize আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় এখনো কয়েক লাখ সাশ্রয়ী ও সামাজিক আবাসনের ঘাটতি রয়েছে এবং এই সমস্যা সমাধান করতে বহু বছর সময় লাগতে পারে।

তার যুক্তি, বিনিয়োগকারীদের কর-ছাড়ে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা যদি সরকারি আবাসন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়, তাহলে আরও ন্যায্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

তবে রিয়েল এস্টেট খাত ও শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এই সংস্কারের তীব্র সমালোচনা করেছে।

Real Estate Institute of Australia-এর সভাপতি Jacob Caine বলেন, অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই ২০২৯ সালের মধ্যে ১২ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

তার মতে, এই মুহূর্তে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করার মতো নীতি নয়, বরং আরও বেশি আবাসন বিনিয়োগ উৎসাহিত করার নীতি দরকার।

একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Housing Industry Association-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ Tim Reardon।

তিনি বলেন, গত বছর নতুন আবাসন নির্মাণের বড় অংশই বিনিয়োগকারীদের অর্থায়নে হয়েছে। কর সুবিধা কমে গেলে অনেক বিনিয়োগকারী আবাসনের বদলে শেয়ারবাজার, বাণিজ্যিক সম্পত্তি বা শিল্প খাতে অর্থ সরিয়ে নিতে পারেন।

অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও এই সংস্কারের প্রভাব নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে অনেকেই একমত যে এই পদক্ষেপ অন্তত বাড়ির দাম বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমাতে পারে।

Commonwealth Bank-এর জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ Trent Saunders বলেন, কর সংস্কার, বাড়তি জ্বালানি মূল্য এবং সাম্প্রতিক সুদের হার বৃদ্ধির সম্মিলিত প্রভাব ভবিষ্যতের বাড়ির মূল্যবৃদ্ধি প্রায় ১ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে।

কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি আবাসন বাজারকে কিছুটা সাশ্রয়ী করতে সহায়তা করতে পারে।

তবে অন্যদের সতর্কবার্তা হলো—যদি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাহলে নতুন আবাসন সরবরাহে চাপ তৈরি হবে। এর ফলে ভাড়াটিয়া ও বাড়ি ক্রেতা—উভয় পক্ষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার নতুন হাউজিং ট্যাক্স সংস্কার এখন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here