Bruno Fernandes আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার। Manchester United অধিনায়ক এবার প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়েছেন এক অনন্য কীর্তিতে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজের ২০তম অ্যাসিস্ট করে তিনি স্পর্শ করেছেন কিংবদন্তি Thierry Henry এবং Kevin De Bruyne-এর গড়া এক মৌসুমি অ্যাসিস্ট রেকর্ড।
Nottingham Forest-এর বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ে ম্যাচের নির্ধারণী মুহূর্তটি তৈরি করেন ব্রুনো। তার নিখুঁত পাস থেকেই জয়সূচক গোল করেন Bryan Mbeumo। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে এক মৌসুমে ২০ অ্যাসিস্টের মাইলফলকে পৌঁছে যান পর্তুগিজ তারকা।
এখন মৌসুমে ইউনাইটেডের হাতে আছে আর মাত্র একটি ম্যাচ। ফলে ব্রুনোর সামনে সুযোগ রয়েছে এককভাবে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হওয়ার।
৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মৌসুম। কোচ Michael Carrick-এর অধীনে নতুন রূপে জেগে ওঠা ইউনাইটেডের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ব্রুনোকে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পাস দেওয়া এক আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে দেখতেন। অসাধারণ কিছু মুহূর্ত তৈরি করলেও প্রায়ই কঠিন পাস দিতে গিয়ে বল হারানোর অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। তবে এই মৌসুমে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
এবারের ব্রুনো অনেক বেশি পরিণত, ঠাণ্ডা মাথার এবং কার্যকর। সৃজনশীলতার পাশাপাশি খেলায় নিয়ন্ত্রণ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এবং চাপের মুহূর্তে স্থিরতা তাকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
শুধু শেষ পাস দেওয়াই নয়, ইউনাইটেডের পুরো আক্রমণ গড়ে তোলার কেন্দ্রে এখন ব্রুনো। মাঝমাঠের গভীর অঞ্চল থেকে খেলা তৈরি করে আবার আক্রমণভাগে উঠে গিয়ে গোলের সুযোগও তৈরি করছেন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছেন ব্রুনো। পাশাপাশি প্রগ্রেসিভ পাসের তালিকাতেও রয়েছেন সেরাদের মধ্যে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এখন তিনি সৃজনশীলতা ও ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তার এমন সমন্বয় ঘটাচ্ছেন, যা খুব কম মিডফিল্ডারের মধ্যেই দেখা যায়।
এই মৌসুমে ব্রুনোর আরেকটি বড় সাফল্য হলো দলের অন্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স উন্নত করা। তার অসাধারণ ভিশন ও পাসিংয়ের সুবিধা পেয়েছেন Benjamin Sesko, Matheus Cunha, ব্রায়ান এমবেউমো এবং Casemiro-র মতো তারকারা।
দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক হোক কিংবা ধীরগতির পজেশনভিত্তিক ফুটবল—দুই ধরনের খেলাতেই সমান কার্যকর ছিলেন ব্রুনো। কখনও উইংয়ে সরে গিয়ে জায়গা তৈরি করেছেন, আবার কখনও মাঝমাঠ থেকে রক্ষণভাগ চিরে দেওয়া নিখুঁত পাস দিয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তার অনেক অ্যাসিস্ট এসেছে ম্যাচের কঠিন মুহূর্তে। যখন ম্যাচ সমতায় ছিল কিংবা ইউনাইটেড পিছিয়ে ছিল, তখনই দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন তিনি।
সেট-পিস থেকেও এই মৌসুমে ইউনাইটেডকে বড় সুবিধা এনে দিয়েছেন ব্রুনো। কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে তার একাধিক অ্যাসিস্ট দলের কৌশলগত উন্নতির বড় প্রমাণ।
তবে আরও অবাক করা বিষয় হলো, সতীর্থরা কিছু সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত। বিশেষ করে সেসকো ও কুনহার মিস করা কয়েকটি সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে পুরো মৌসুমজুড়ে।
তবুও ব্রুনোর প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, শেষ ম্যাচে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যেন তাদের অধিনায়ক এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নিতে পারেন।
নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে জয়ের পর ব্রুনো বলেন, ব্যক্তিগত অর্জন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দলের সাফল্যই তার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। অধিনায়ক হিসেবে তিনি সবসময় দলীয় অর্জনকেই অগ্রাধিকার দেন।
এরই মধ্যে ইংল্যান্ডজুড়ে তার পারফরম্যান্স ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। চলতি মাসেই তিনি জিতেছেন Football Writers’ Association বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
এখন পুরো ফুটবল বিশ্বের নজর শেষ ম্যাচের দিকে। ব্রুনো কি এককভাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হবেন? উত্তর যা-ই হোক, ২০২৫-২৬ মৌসুম ইতোমধ্যেই তাকে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্লেমেকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।










