নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির সদস্যদের সতর্ক করে বলেছেন, কর বৃদ্ধি নিয়ে নতুন বিতর্কে জড়ানোর আগে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাঁর মতে, সরকারের ভবিষ্যৎ ব্যয় পরিকল্পনা টেকসই করতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি করা, শুধু রাজস্ব বাড়ানো নয়।
Sky News Sunday Agenda অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিন্স বলেন, আসন্ন লেবার পার্টির রাজ্য সম্মেলনে নতুন কর নীতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে সরকারের উচিত ইতোমধ্যে ঘোষিত নীতিগুলোর বাস্তবায়ন ও জনগণের কাছে সেগুলোর সুফল তুলে ধরার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
তিনি বলেন, সরকার যদি ভবিষ্যতে কর ও রাজস্ব কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে, তবে অবশ্যই সেটিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কারণ আগামী দিনের সরকারি ব্যয়ের বড় অংশ নির্ভর করছে একটি শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত অর্থনীতির ওপর।
মিন্সের এই মন্তব্য এসেছে ফেডারেল লেবার সরকারের বিতর্কিত ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) সংস্কার সংসদে পাস হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই। নতুন আইনের আওতায় দীর্ঘদিনের ৫০ শতাংশ কর ছাড়ের পরিবর্তে মূল্যস্ফীতিভিত্তিক (ইনফ্লেশন-ইনডেক্সেশন) পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও স্টার্টআপ খাতের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।
ফেডারেল সরকার দাবি করছে, নতুন কর ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে আবাসন বাজারে প্রজন্মগত বৈষম্য কমাতে এবং কর কাঠামোকে আরও ন্যায়সঙ্গত করতে সহায়তা করবে। তবে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, এই পরিবর্তন বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্রিস মিন্সও প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নিউ সাউথ ওয়েলস অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। তাই তিনি আশা করেন নতুন করনীতি যেন উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি না করে।
এদিকে ফেডারেল ট্রেজারার জিম চালমার্স স্বীকার করেছেন, কর সংস্কারটি বিতর্কিত হলেও এটি অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ইতিবাচক হবে। সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, ৫০ শতাংশ অ্যাকটিভ অ্যাসেট CGT এক্সেম্পশন পাওয়ার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার সীমা ২০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি ডলার করা হবে।
এ ছাড়া উদ্ভাবনী স্টার্টআপগুলোর জন্য বিশেষ কর-সুবিধা, দুই বছরের লস ক্যারি-ব্যাক ব্যবস্থা, স্টার্টআপে ক্ষতি ফেরতযোগ্য করার সুযোগ, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ইনস্ট্যান্ট অ্যাসেট রাইট-অফ স্থায়ী করার মতো উদ্যোগও ঘোষণা করেছে সরকার। এসব পদক্ষেপে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
চালমার্স বলেন, যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসা নতুন টার্নওভার সীমার আওতায় পড়বে তারা অন্তত আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে থাকবে। অন্যদের ক্ষেত্রে সুবিধা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতির হার এবং ব্যবসার মালিকের করযোগ্য আয়ের ওপর। তাঁর মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে নতুন ইনডেক্সেশন ব্যবস্থা অনেক ব্যবসার জন্য আরও লাভজনক হতে পারে।
নতুন কর সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখাই এখন অস্ট্রেলিয়ার নীতিনির্ধারকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।











