Home পলিসি তিমুর-লেস্তের সঙ্গে রাশিয়ার নতুন অংশীদারত্ব, অস্ট্রেলিয়ায় কৌশলগত নজরদারি বাড়ছে

তিমুর-লেস্তের সঙ্গে রাশিয়ার নতুন অংশীদারত্ব, অস্ট্রেলিয়ায় কৌশলগত নজরদারি বাড়ছে

25
0

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কূটনৈতিক প্রভাব আরও বিস্তৃত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তিমুর-লেস্তের প্রধানমন্ত্রী জানানা গুসমাও (Xanana Gusmão) সম্প্রতি মস্কোতে বৈঠক করে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই উদ্যোগ বিশেষভাবে অস্ট্রেলিয়ার নজর কেড়েছে, কারণ তিমুর-লেস্তে অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূল থেকে ৭০০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে অবস্থিত।

মস্কোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি রাশিয়া তিমুর-লেস্তের উন্নয়ন কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে দেশটির সম্পৃক্ততায় সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।

যদিও বৈঠকে কোনো সামরিক চুক্তি বা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ঘোষণা করা হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে রাশিয়ার কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে নতুন আন্তর্জাতিক অংশীদার খুঁজতে রাশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের মতে, তিমুর-লেস্তের ভৌগোলিক অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানবেরা দেশটির সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রেখেছে। উন্নয়ন সহায়তা, অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও অস্ট্রেলিয়া তিমুর-লেস্তেকে নিয়মিত সমর্থন দিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে তিমুর-লেস্তেতে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো ইঙ্গিত বা পরিকল্পনার তথ্য নেই। তবে দেশটিতে রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে কীভাবে বিকশিত হয়, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে অস্ট্রেলিয়া।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া নিজেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করছে। ক্যানবেরা একদিকে ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও বহাল রেখেছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-তিমুর-লেস্তে সম্পর্ককে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি এমন একটি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে রাশিয়া, চীন এবং পশ্চিমা দেশগুলো কূটনীতি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ছোট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here