এই শুক্রবার (৩০ মে) স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে ডিজনির বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন কমেডি ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এর নতুন লাইভ-অ্যাকশন সংস্করণ। ২০০২ সালের জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রটির আধুনিক রূপে তৈরি করা হয়েছে এই সংস্করণটি। পরিচালনায় রয়েছেন ডিন ফ্লেইশার ক্যাম্প।
২৩ মে আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই এটি প্রথম সপ্তাহে আয় করেছে ১৮৩ মিলিয়ন ডলার, আর বৈশ্বিক আয় দাঁড়িয়েছে ৩৪১ মিলিয়ন ডলারে।
নতুন সংস্করণটি মূল গল্পের আবেগ ও বার্তা বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, অনেক সমালোচক মনে করছেন এতে আগের সেই গভীরতা কিছুটা অনুপস্থিত। বিশেষ করে, স্টিচ চরিত্রটিকে অনেক বেশি হাস্যরসের দিকে নিয়ে যাওয়ায় কিছু দর্শকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
মূল অ্যানিমেটেড সিনেমার ক্যাপ্টেন গ্যান্টু এই সংস্করণে নেই। তার বদলে ড. জুম্বা-কে মূল ভিলেন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন চরিত্র হিসেবে যুক্ত হয়েছেন টুটু নামের এক বৃদ্ধা প্রতিবেশী, যিনি লিলো ও নানির জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখেন।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছয় বছর বয়সী হাওয়াইয়ান মেয়ে লিলো পেলেকাই, যার পছন্দ হুলা নাচ ও সার্ফিং। এক দূরবর্তী গ্রহে বিজ্ঞানী ড. জুম্বা জুকিবা এক অবৈধ পরীক্ষার মাধ্যমে এক্সপেরিমেন্ট ৬২৬ নামের এক শক্তিশালী প্রাণী তৈরি করেন। পরে সে পালিয়ে এসে হাওয়াইয়ের কাউআই দ্বীপে অবতরণ করে।
লিলো তাকে একটি কুকুর ভেবে বাড়ি নিয়ে আসে এবং নাম দেয় স্টিচ। এরপর থেকেই শুরু হয় বন্ধুত্ব, পারিবারিক টানাপড়েন, এবং নানা জটিলতা। ড. জুম্বা ও তার সঙ্গী প্লিকলি স্টিচকে পুনরুদ্ধারের জন্য পৃথিবীতে আসে, যা লিলো ও তার বড় বোন নানি-র জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
গল্পের শেষে স্টিচ নিজের আত্মত্যাগের মাধ্যমে লিলোকে রক্ষা করে। এই পরিবর্তন দেখে গ্র্যান্ড কাউন্সিলওম্যান স্টিচকে পৃথিবীতে থাকার অনুমতি দেন এবং জুম্বাকে গ্রেফতার করেন।
এই সিনেমাটি মূলত বন্ধন, আত্মত্যাগ ও পরিবর্তনের গল্প—যা শিশু ও পরিবারভিত্তিক দর্শকদের পাশাপাশি নস্টালজিক প্রাপ্তবয়স্কদেরও আকৃষ্ট করবে।










