ইলন মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা হিসেবে তার সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে জানা গেছে। ওভাল অফিসে বিদায় জানাতে গিয়ে মাস্ক পরেছিলেন ‘ডজ’ লেখা একটি টুপি ও ‘ডজফাদার’ লেখা টি-শার্ট। এখানে ‘ডজ’ মানে—ডিপার্টমেন্ট অব গভর্মেন্ট এফিশিয়েন্সি।
মাস্ক জানান, ১ ট্রিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন সম্ভব। ট্রাম্পও বলেন, মাস্ক পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন না, বরং মাঝে মাঝে ফিরে আসবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিমালায় বলা আছে, বিশেষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কেউ বছরে সর্বোচ্চ ১৩০ দিন দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সেই সীমা পেরিয়ে যাওয়াতেই মাস্কের এই পদত্যাগ।
তবে বাইরের বন্ধুত্বপূর্ণ দৃশ্যের আড়ালে নীতিগত পার্থক্য এখন বেশ স্পষ্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক ট্রাম্পের সমর্থিত ‘ডোমেস্টিক পলিসি বিল’ নিয়ে সমালোচনা করেন। মাস্ক বলেন, এই বিল বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ‘ডজ’ টিমের প্রচেষ্টার প্রতি উদাসীনতা দেখায়।
ট্রাম্প এই বিলকে বলেন ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’, আর মাস্ক ঠাট্টা করে বলেন, ‘একটা বিল হয় বড়, অথবা সুন্দর—দুটো একসঙ্গে হয় না।’ মাস্কের এই অবস্থান সিনেটর র্যান্ড পল-এর সমর্থন পায়।
এটাই তাদের একমাত্র মতভেদ নয়। ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে আগে থেকেই দ্বিমত পোষণ করে আসছেন মাস্ক। টেসলার যন্ত্রাংশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি হওয়ায় তিনি সবসময় মুক্ত বাণিজ্য ও শুল্ক হ্রাস-এর পক্ষে। মাস্ক ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শূন্য শুল্ক চুক্তির আহ্বান জানালেও ট্রাম্প ঠিক উল্টো পথে হাঁটছেন।
এ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উপদেষ্টা পিটার নাভারো মাস্ককে নিয়ে কটাক্ষ করলে মাস্ক কড়া প্রতিক্রিয়া জানান এবং টেসলার স্থানীয় উৎপাদনের প্রমাণ তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক জগতে প্রবেশের কারণে মাস্কের ব্যক্তিগত ও আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, তার প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে বেশিরভাগ আমেরিকান অসন্তুষ্ট। পাশাপাশি, টেসলার বিক্রিও কমেছে। জানা গেছে, রিপাবলিকানদের পেছনে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার পর মাস্কের সম্পদ কয়েক বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে।
তবে সবকিছুর পরও ধারণা করা হচ্ছে, মাস্ক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে থেকে যাবেন। যদিও একসময়কার ঘনিষ্ঠতা এখন ধীরে ধীরে নীতিগত দূরত্বে রূপ নিচ্ছে।










