Home বাংলাদেশ লন্ডন বৈঠকে দৃষ্টি দেশবাসীর, ইউনূস-তারেক বৈঠকে মিলবে কি রাজনৈতিক সমঝোতা?

লন্ডন বৈঠকে দৃষ্টি দেশবাসীর, ইউনূস-তারেক বৈঠকে মিলবে কি রাজনৈতিক সমঝোতা?

148
0

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল শুক্রবার (১৩ জুন) লন্ডনে বৈঠকে বসছেন। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়।

বহুজন মনে করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের একটি বড় পদক্ষেপ হতে পারে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লন্ডনের এই আলোচনা হতে পারে ঢাকার রাজনীতির ‘কম্পাস’, যা ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করবে।

পূর্বের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং ২০০৭ সালের ‘ওয়ান-ইলেভেন’ পরিস্থিতির মতো সংকটময় মুহূর্তে রাজনৈতিক সমঝোতার অভাব দেশকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তাই নতুন করে এমন অনিশ্চয়তা এড়াতে ইউনূস-তারেক বৈঠককে অনেকেই দেখছেন সম্ভাব্য সমঝোতার সূত্র হিসেবে।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ভোটের সময়সীমা জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই সময়কালে বিএনপির আন্দোলন, ইশরাক হোসেনকে শপথ নিতে না দেওয়া, ছাত্রদল নেতা সাম্য হত্যার বিচার দাবিসহ নানা ইস্যু রাজনীতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।

ঈদের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস এপ্রিল মাসে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন, যা বিএনপির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে। ঠিক সেই সময়েই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন এবং আলোচনার দরজা খুলে দেন। বৈঠকে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ফ্যাসিবাদবিরোধী এবং বিএনপিকেও সেই কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখছে।

পরে খালেদা জিয়ার নির্দেশে তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ইউনূসের প্রস্তাবিত আলোচনায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বিএনপি নেতাদের মতে, এই বৈঠকে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ, ‘জুলাই সনদ’ ও ঘোষণাপত্রে বিএনপির অবস্থান, এবং তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইমরান মনে করেন, এই বৈঠক একটি বড় ধরনের সমঝোতার ভিত্তি হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের কুশীলবরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইবে, আর বিএনপি চাইবে নিরপেক্ষ নির্বাচন ও দলের নেতাদের নিরাপত্তা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বেপারিও মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধান না হলে রাজনৈতিক ডেডলক তৈরি হবে, যা দেশকে পিছিয়ে দেবে। তাই তিনি উভয় পক্ষকে নমনীয় হয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “ইউনূস সাহেবের এপ্রিলের নির্বাচনী প্রস্তাবে জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো ইতোমধ্যে সাড়া দিয়েছে। বিএনপি এতে সম্মত হলে আরও দল একমত হবে। কিছু ছাড় দিয়ে হলেও সবাই বসলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারুফ কামাল খান বলেন, “কে বৈঠকের প্রস্তাব দিলো বা কে আগে এগোলো, সেটি বড় বিষয় নয়। আসল বিষয় হচ্ছে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো। ড. ইউনূস যদি এমন বৈঠক চেয়ে থাকেন, তাতে দোষের কিছু নেই—বরং এটা ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জুলাই-আগস্ট মাসের মধ্যে যদি নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণা না করে, তবে ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে ভোটগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই বর্তমান সময়ই সবচেয়ে উপযুক্ত সমঝোতায় পৌঁছার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here