ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, প্রাচ্যের দেশগুলোর উপর আধিপত্য বিস্তারের সময় প্রায়শই ভুল নীতিমালার ফাঁদে পড়ে। ইরানের মতে, পশ্চিমা দেশগুলো প্রাচ্যের প্রকৃত শক্তি ও সক্ষমতাকে উপেক্ষা করে।
তেহরান মনে করে, বিগত চার দশকে তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতা অর্জন। জায়নবাদী ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অনিয়মিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় প্রতিরোধ এবার বিশ্বকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে।
ইরান, প্রাচীন পারস্যের উত্তরাধিকারী হিসেবে, প্রমাণ করেছে—যে সরকার জনগণের সমর্থনে দাঁড়ায়, সে সরকার নিজের শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে। ইরানের দৃষ্টিতে, জনগণের সম্মিলিত শক্তিই একটি জাতির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আর ইতিহাসও বলে, জনসমর্থনবিহীন শাসনের আয়ু দীর্ঘ হয় না।
প্রাচ্য যে অনেক সময় বাইরের দৃষ্টিতে দুর্বল মনে হলেও, প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে থাকে মানুষের মেধা, ঐক্য এবং আধ্যাত্মিক দৃঢ়তায়—তা তুলে ধরেছে ইরান। তারা বিশ্বাস করে, কোনো জাতির প্রকৃত নিরাপত্তা আসে জ্ঞান, ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে। যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হয়, যখন তা হয় শান্তির উপযুক্ত ভিত্তি।
ইরানের মতে, জ্ঞান বিজ্ঞানের ওপর হামলা চালিয়ে কোনো জাতিকে থামানো যায় না। পশ্চিমা হামলায় বিজ্ঞানীরা প্রাণ হারালেও, ইরান নিজস্ব প্রযুক্তিতে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে ইসরায়েলের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দেয়। লাগাতার হামলার মাধ্যমে তারা ইসরায়েলকে একপ্রকার অসহায় করে তোলে।
এই লড়াইয়ের মাধ্যমে ইরান বিশ্বকে দেখিয়েছে, একবিংশ শতাব্দীতে সামরিক প্রযুক্তি ছাড়া কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা প্রায় নেই বললেই চলে। সঙ্কটের মুহূর্তে কে বন্ধু, কে শত্রু—তা নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে ওঠে।
তাদের বার্তা স্পষ্ট: আগুন লাগলে শত্রুর যুদ্ধবিমান জ্বালানো নয়, বরং প্রতিবেশীকে পানি দিয়ে সাহায্য করা উচিত—কারণ, আগুন একসময় আপনার ঘরেও আসতে পারে।
নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে টিকে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। তাদের মতে, শান্তি এক দুর্লভ ও মূল্যবান সম্পদ, যা টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া আবশ্যক। যেহেতু বিশ্বে এখনো শক্তির অপব্যবহারকারী শক্তিধররা বিদ্যমান, তাই সম্মানজনক শান্তি অর্জন এবং তা সংরক্ষণে সতর্ক ও সচেষ্ট থাকতে হবে।










