Home বিশ্ব ব্রহ্মপুত্রের উৎসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করছে চীন

ব্রহ্মপুত্রের উৎসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ করছে চীন

437
0

দুই দেশের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদে চীন নির্মাণ করছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ। তিব্বতের ইয়ারলুং জাংবো নদী, যা ভারতের অরুণাচল ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত, সেই নদীর উপর ৬০ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই মেগা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার (১৯ জুলাই) বাঁধ নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

চীনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বাঁধে থাকবে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার সম্ভাব্য ব্যয় ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই প্রকল্প শেষ হলে এটি থ্রি গর্জেস বাঁধকেও ছাড়িয়ে যাবে, যা এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত।

চীনের দাবি, এই প্রকল্প তিব্বতের স্থানীয় বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি চীনের অন্যান্য অঞ্চলেও বিদ্যুৎ সরবরাহে ভূমিকা রাখবে।

উদ্বেগ ও সমালোচনা

তবে প্রকল্পটি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে ভারত ও বাংলাদেশে, কারণ উজানে এই ধরনের বাঁধ নিম্নপ্রবাহে পানির প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, জীববৈচিত্র্য এবং লাখো মানুষের জীবিকায়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত সরাসরি তাদের উদ্বেগ জানিয়ে বলে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনকে অনুরোধ করেছে, যেন উজানে করা কার্যক্রমে নিম্নপ্রবাহের দেশগুলোর স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

চীন অবশ্য দাবি করেছে, এই বাঁধ নির্মাণের ফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না এবং নদীর তীরবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।

এদিকে, পরিবেশবিদ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও প্রকল্পটির সমালোচনা করেছে। তারা বলছেন, তিব্বতের মতো সংবেদনশীল পরিবেশে এ ধরনের মেগা প্রকল্প অপূরণীয় পরিবেশগত ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

এর আগে থ্রি গর্জেস বাঁধ নির্মাণের সময় ১৪ লাখের বেশি মানুষকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। যদিও ইয়ারলুং জাংবো নদীর অঞ্চলে ঘনবসতি তুলনামূলকভাবে কম, তবুও ঠিক কত মানুষকে এই প্রকল্পে স্থানান্তরিত করা হবে—সেই বিষয়ে নির্মাণকারী সংস্থা এখনো কিছু জানায়নি।

চীনের এই উদ্যোগ কেবল প্রযুক্তিগত নয়, এটি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করে, বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশের জন্য। তাই আন্তর্জাতিক মহলে এখনই জোরালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here