Home বাংলাদেশ বন্ধুর খোঁজে কান্নারত নাবিল ও আদিব: মাইলস্টোনের আঙিনায় নিস্তব্ধ অপেক্ষা

বন্ধুর খোঁজে কান্নারত নাবিল ও আদিব: মাইলস্টোনের আঙিনায় নিস্তব্ধ অপেক্ষা

342
0

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের বাইরে বুধবার সকালটা ছিল বিষণ্ন, ভারী এবং চাপা কান্নায় পরিপূর্ণ। স্কুল প্রাঙ্গণে ঢোকার চেষ্টা করছে দুই কিশোর—আদিব ও নাবিল। কড়া নিরাপত্তায় বিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও তারা স্কুলের ফটকে, কখনোবা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে বন্ধুর খোঁজে উঁকি দিচ্ছিল। চোখেমুখে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। ফুয়াদ—তাদের প্রিয় বন্ধু—আর নেই, নাকি কোথাও আহত অবস্থায় পড়ে আছে, কেউ বলতে পারছে না।

আদিব, মাইলস্টোন স্কুলের বাংলা ভার্সনের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, বলছিলেন, “বিমানটা যেখানে পড়ছে, আমরা তখন সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। ইংলিশ ভার্সনের সঙ্গে খেলার সময় একটা ফ্রেন্ড ডাকে, ওখানে যাই। মিনিটখানেকের মধ্যে হঠাৎ বিকট আওয়াজে কিছু একটা পড়ে। পেছনে তাকিয়ে দেখি ধোঁয়া আর আগুন। তখন বন্ধুরা চারপাশেই ছিল। চোখের সামনে দেখলাম ফুয়াদের হাত—এখানে-সেখানে রক্ত।”

আদিব জানায়, আরেক বন্ধু শানকে আহত অবস্থায় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে, তবে ফুয়াদের খোঁজ আজও মেলেনি। কারও কাছে তার পরিবারের নম্বর নেই, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

ফুয়াদের মতোই অনিশ্চয়তার মাঝে আছে নাবিল। কথা বলতে পারছে না সে; চোখে ক্লান্তি, মুখে অসহায় নিরবতা। ফুয়াদের খবর জানতে চায় বারবার। “কেউ যদি একটু বলতো, কোথায় আছে ফুয়াদ!”—এই আকুতি ছাড়া যেন আর কিছুই বলার শক্তি নেই তার।

দিয়াবাড়ীর আকাশে হালকা রোদ, তবে নাবিলের চোখে টলমল অশ্রু কি ঘাম, নাকি চোখের কান্না—তা বুঝে ওঠা দায়।

উল্লেখ্য, সোমবার দুপুর ১টা ৬ মিনিটে তেজগাঁও বিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ জনের প্রাণহানি এবং আরও অন্তত ১৬৪ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর থেকে স্কুলে প্রবেশে কড়াকড়ি চলছে; সাংবাদিকরাও বাইরে অপেক্ষা করছেন। ভেতরে চলছে প্রশাসনিক মিটিং, আর বাইরে নিঃশব্দে অপেক্ষা করছে আদিব-নাবিলদের মতো শোকাহত বন্ধুরা—প্রিয়জনের কোনো খোঁজের আশায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here