অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের বরোনিয়া এলাকায় অবস্থিত স্বামিনারায়ণ মন্দিরে বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনায় ভারতীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মন্দিরের গায়ে স্প্রে পেইন্ট করে অ্যাডলফ হিটলারের ছবি ও “Go Home Brown C**T” বার্তা আঁকা হয়েছে। একই বার্তা বরোনিয়ার আরও দুটি এশিয়ান রেস্তোরাঁয়ও দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘটে ২১ জুলাই রাতে, যা বর্তমানে স্থানীয় পুলিশ ‘হেট ক্রাইম’ বা ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে।
অস্ট্রেলিয়ার হিন্দু কাউন্সিলের সভাপতি মকরন্দ ভগবৎ এক বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ধর্মীয় উপাসনালয়ে এমন ঘৃণার বার্তা গভীরভাবে হৃদয়বিদারক।” তিনি জানান, মেলবোর্নের এই মন্দিরে প্রতিদিন প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয় এবং এখানে ভারতীয় প্রবাসীদের নিয়মিত আনাগোনা থাকে।
ভিক্টোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী জ্যাকিন্টা অ্যালান এই ঘটনাকে “ভয় ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলা” হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এই হামলা শুধু ইটপাথরের ওপর নয়, এটি একটি বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত।” তিনি মন্দির কর্তৃপক্ষকে পাঠানো চিঠিতে প্রতিশ্রুতি দেন, এই ধরনের ঘৃণাজনিত অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
ভিক্টোরিয়া রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বহুসংস্কৃতির মন্ত্রী শীনা ওয়াটস মন্দির পরিদর্শনে যাবেন এবং সরকারি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ান টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরোনিয়া এলাকায় এক রাতেই চারটি স্থানে এমন ঘটনা ঘটেছে। মন্দির ও দুটি রেস্তোরাঁ ছাড়াও মাউন্টেন হাইওয়ের একটি নির্মাণকেন্দ্র ও একটি হিন্দু মন্দিরের সামনেও গ্রাফিতি স্প্রে করা হয়। পরদিন সকালে মন্দিরের গেট ও রাস্তার পাশে আরও দুটি জায়গায় একই ধরনের ঘৃণামূলক বার্তা দেখা যায়।
এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ২০০৯-১০ সালের বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার স্মৃতি আবারও উসকে দিয়েছে, যখন অস্ট্রেলিয়ায় একাধিক ভারতীয় শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।










