Home এশিয়া পেসিফিক Election অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনের পর যেই জিতুক, সিনেটের সঙ্গে কাজ করতেই হবে

অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচনের পর যেই জিতুক, সিনেটের সঙ্গে কাজ করতেই হবে

179
0

অস্ট্রেলিয়ার ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনে যেই দল বিজয়ী হোক না কেন, সরকার গঠনের পর তাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকবে সিনেটে আইন পাস করানো। কারণ বর্তমান ও প্রত্যাশিত ভবিষ্যৎ গঠনে কোনো একক দলের জন্য সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব নয়।

সিনেট: সিদ্ধান্তের বড় শক্তি

অস্ট্রেলিয়ান সংসদের উচ্চকক্ষ ‘সিনেট’ একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্বে গঠিত, যেখানে সরকারপন্থী দলকে প্রতিটি আইন পাস করাতে সহযোগিতা নিতে হয় অন্যান্য দলের বা স্বাধীন সিনেটরদের। ২০২২ সালের নির্বাচনের পর থেকে সেখানে একটি প্রগতিশীল ব্লক গড়ে উঠেছে—লেবার পার্টি ও গ্রিনস মিলে ৩৭টি আসন রয়েছে। কিন্তু যেকোনো আইন পাস করাতে অন্তত ৩৯ ভোটের প্রয়োজন হওয়ায় তাদের স্বাধীন সিনেটর ডেভিড পোকক, জ্যাকি ল্যাম্বি নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য ক্রসবেঞ্চারদের সহায়তা নিতে হচ্ছে।

আসন্ন নির্বাচন এবং তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

২০২৫ সালের নির্বাচনে সিনেটের ছয়টি আসনের জন্য প্রতিটি রাজ্যে আবার ভোট হবে। এই ছয়টি আসনের মধ্যে শেষটির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সবচেয়ে তীব্র। কুইন্সল্যান্ডে ডানপন্থী ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় লেবার একটি আসন ফিরে পেতে পারে। ওয়ান নেশন, লিগালাইজ ক্যানাবিস পার্টি, এবং স্বাধীন প্রার্থীরা কোয়ালিশনের প্রচলিত ভোট ব্যাংকে ভাঙন ধরাতে পারে।

নিউ সাউথ ওয়েলস, ভিক্টোরিয়া, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মতো রাজ্যেও ছোট দল এবং স্বাধীন প্রার্থীরা ফেডারেল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ট্রাম্পেট অব প্যাট্রিয়টস-এর মতো নতুন গঠন বা পরিবেশবান্ধব এবং মুক্তচিন্তার দলগুলোর প্রতিও কিছু ভোটারের ঝোঁক দেখা যাচ্ছে।

যদি কোয়ালিশন ক্ষমতায় আসে?

পিটার ডাটনের নেতৃত্বাধীন লিবারেল-ন্যাশনাল কোয়ালিশন যদি সরকার গঠন করে, তাহলে তাদের জন্য সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করাও কঠিন হবে। তারা গ্রিনস বা পোককের মতো স্বাধীন প্রার্থীদের সমর্থন ছাড়া কোনো আইন সহজে পাস করতে পারবে না। এবং এই প্রক্রিয়াটি অনেক সময়, দরকষাকষি ও রাজনৈতিক কৌশল দাবি করবে।

ডাটন ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ২০৩০ সাল নাগাদ নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা পরিবর্তন করবেন। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে সিনেটের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়। গ্রিনস বা পোকক এই নীতিতে বাধা দিতে পারেন।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা

এই পরিস্থিতি আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে অস্ট্রেলিয়ান রাজনীতিতে স্বাধীন ও ছোট দলের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। জনগণ দুই প্রধান দলের বাইরে নতুন বিকল্প খুঁজছে, বিশেষত যারা পরিবেশ, ন্যায়বিচার, এবং সমাজকল্যাণ ইস্যুতে সরব।

ফলে নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ভবিষ্যতের সরকারকে একটি বিভক্ত সিনেটের সঙ্গে সমন্বয় করেই আইন চালাতে হবে। আর এই দায়িত্ব যথেষ্ট কৌশল ও আলোচনার মাধ্যমে সামলাতে হবে যেকোনো শাসকদলের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here