অস্ট্রেলিয়ার প্রথম হিজাব পরা নারী সিনেটর ফাতেমা পেইম্যান একজন পুরুষ সহকর্মীর বিরুদ্ধে অশোভন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী মন্তব্য করার অভিযোগ তুলেছেন।
এক সামাজিক অনুষ্ঠানে ওই সহকর্মী, যিনি তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, তাকে বলেন: “চলো তোমাকে ওয়াইন খাওয়াই, তারপর দেখি টেবিলের ওপর নাচো।”
এই মন্তব্যে বিস্মিত ও বিরক্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফাতেমা বলেন, “আমি মদ খাই না। তোমরা খাও বলে আমাকে ভিন্নভাবে দেখা—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এই ঘটনাটি দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট অনলাইন পোর্টালে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
মাত্র ২৮ বছর বয়সে ২০২২ সালে লেবার পার্টির হয়ে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া থেকে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন ফাতেমা পেইম্যান। তার মতে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ রাজনীতিকরা আর আগের মতো অবিচার, অপমান বা বৈষম্য মেনে নিচ্ছেন না। তিনি বলেন, “না বলার মানেই নিজের সীমানা নির্ধারণ করা—এটা আত্মসম্মানের ব্যাপার, দয়ার নয়।”
ঘটনার পর তিনি ‘পার্লামেন্টারি ওয়ার্কপ্লেস সাপোর্ট সার্ভিস’ নামে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ করেন, যা গঠিত হয় আলোচিত ব্রিটনি হিগিন্স মামলার পর। ফাতেমা জানান, প্রতিষ্ঠানটি তার অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে নিয়ে পেশাদার ও দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এতে তিনি সন্তুষ্ট।
আফগানিস্তানের কাবুলে ১৯৯৫ সালে জন্ম নেওয়া ফাতেমা পরে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানে তিনি ফার্মেসিতে সহকারী এবং ইউনিয়ন সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। ২০২২ সালে তিনি ‘অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম রোল মডেল অব দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত হন।










