মোহাম্মদ শামীমের জীবনগাথা এক অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোক্তার গল্প, যেখানে পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতা তাঁকে সাধারণ কর্মী থেকে সফল ব্যবসায়ীতে রূপান্তরিত করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগে পড়াশোনা শেষে শামীম ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে ডেকিন ইউনিভার্সিটিতে অ্যাকাউন্টিং ও ফাইন্যান্সে স্নাতকোত্তর করেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি মেলবোর্নের একটি সাবওয়ে রেস্তোরাঁয় খণ্ডকালীন কাজ শুরু করেন।
সাবওয়ের একটি আউটলেটে ‘স্যান্ডউইচ আর্টিস্ট’ হিসেবে কাজ শুরু করেন শামীম। গ্রাহকের অর্ডার নেওয়া, টেবিল মোছা, মেঝে পরিষ্কারসহ নানা কাজ করতেন তিনি। কয়েক মাসের মধ্যেই মালিকের আস্থা অর্জন করে স্টোর ম্যানেজার এবং পরে এরিয়া ম্যানেজার পদে উন্নীত হন।

ডেকিন ইউনিভার্সিটির সহপাঠী চীনের ইয়ানান ঝাওয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব থেকে প্রেম এবং ২০১০ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১১ সালে মেলবোর্নের গ্র্যান্ড হ্যান্ডলিতে একটি সাবওয়ে আউটলেট কেনার সুযোগ পান শামীম। প্রায় তিন লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলারের এই বিনিয়োগের জন্য তিনি ব্যাংক ঋণ, পরিবারের সহায়তা এবং বন্ধুদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন।
প্রথম আউটলেটের সফলতার পর আট মাসের মধ্যে দ্বিতীয় আউটলেট কিনে ফেলেন। এরপর একে একে আউটলেটের সংখ্যা বাড়তে থাকে। করোনাকালে অনেকেই সাবওয়ের আউটলেটের মালিকানা ছাড়লে শামীম সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আউটলেট কিনে নেন। ২০২৪ সালেই তিনি ১০৮টি আউটলেটের মালিক হন, যেখানে দুই হাজারের বেশি কর্মী কাজ করেন।
বর্তমানে মোহাম্মদ শামীমের ব্যবসার বার্ষিক লেনদেন ১৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার সমান। তিনি সাবওয়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড অঞ্চলের ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি অব দ্য ইয়ার ২০২৩’ খেতাব অর্জন করেছেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে শামীমের শিকড়। তিনি বাংলাদেশ থেকে রেস্তোরাঁর কাঁচামাল, পোশাক, প্যাকেজিং সামগ্রী সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন এবং ইতিমধ্যে কিছু সরবরাহকারীর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন।
মোহাম্মদ শামীমের এই যাত্রা প্রমাণ করে, পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও সঠিক সিদ্ধান্ত একজন মানুষকে কত দূর এগিয়ে নিতে পারে।










