ঢাকা তেহরানের পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
রোববার (১৫ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সেখানে বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে তাদের উদ্ধারের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানে বাংলাদেশের প্রবাসী সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবে কিছু শিক্ষার্থী রয়েছেন। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে, ফলে এখনই তাদের ফেরত আনা সম্ভব নয়। বিমান যোগাযোগ চালু হলে, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং অনেকেই স্বেচ্ছায় ফিরে আসতে পারবেন।
তেহরানে বাংলাদেশের দূতাবাসের কনস্যুলার ওয়ালিদ ইসলাম জানান, ইরানে মোট ৬৬ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে তেহরানে ৫ জন, কারাজে ১ জন, গোরগানে ৮ জন, কোমে ৫০ জন, ইসফহানে ১ জন এবং মাসাদে ১ জন পড়াশোনা করছেন। তারা সবাই ভালো আছেন এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। এছাড়া, সেখানে কোনো বাংলাদেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরও জানান, ইরানের বেশিরভাগ বাংলাদেশি বন্দর আব্বাসে থাকেন, যা তেহরান থেকে ১,২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সেখানে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশের দূতাবাসের তালিকায় ৬৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিক ইরানে বসবাস করছেন, তবে তালিকার বাইরে আরও অনেক বাংলাদেশি রয়েছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার, যাদের বেশিরভাগই অনিয়মিত।
এদিকে, ইরানে ইসরায়েলের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের এই হামলা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। এটি আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক শান্তির জন্য একটি গুরুতর হুমকি, যার সুদূরপ্রসারী পরিণতি হতে পারে। বাংলাদেশ জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।
১৩ জুন ভোরে ইসরায়েল ইরানে বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালালে ৭৮ জন নিহত এবং ৩২০ জন আহত হন, এর মধ্যে ৬ বিজ্ঞানী ছিলেন। ইরানের পাল্টা হামলায় ৭ ইসরায়েলি নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।










