Home বাংলাদেশ নীল জলের ছোঁয়ায় মোহনীয় এক সড়ক

নীল জলের ছোঁয়ায় মোহনীয় এক সড়ক

128
0

প্রকৃতি ও বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। এখানকার প্রকৃতি প্রতিনিয়ত বদলে যায় এবং নতুন রূপে ধরা দেয়, যা সহজেই আকৃষ্ট করে দর্শনার্থীদের।

এই পার্বত্য অঞ্চলের সড়কগুলো যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি রহস্যময়, যা পর্যটকদের কাছে এক আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন সরকার কাপ্তাই হ্রদের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে কাঁঠালতলীর ফিশারি সংযোগ সড়কটি তৈরি করেন, যার মাধ্যমে শহরের সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার যোগাযোগ সহজ হয়। এই সড়কের ওপর ভিত্তি করেই রাঙামাটি শহর কার্যত দাঁড়িয়ে আছে, ফলে একে রাঙামাটির প্রাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই সড়কের গুরুত্বের পাশাপাশি দু’পাশে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া ও নানা ফুলগাছ মনকাড়া সৌন্দর্য ছড়ায়। বৃক্ষছায়ায় দাঁড়িয়ে কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি ও পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

তবে নির্মাণের পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তেমন কোনো সংস্কার হয়নি। অবহেলা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিশেষ করে ২০১৭ সালের পাহাড়ধসে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেইসঙ্গে হ্রদের ঢেউ ও পাহাড়ি ঢলের আঘাতে সড়কটির নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়ে।

এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ ও সামাজিক সংগঠনগুলো একাধিকবার আন্দোলন ও মানববন্ধনের মাধ্যমে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) ‘পাহাড় ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে বাঁধের পূর্ণ সংস্কার ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে।

প্রকল্পে ৬৬৩ মিটার দীর্ঘ বাঁধে নির্মিত হয় মজবুত আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল এবং সড়কের প্রশস্ততা বাড়াতে মাটি ভরাট করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ২৫২ কোটি টাকা।

এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে, যার মাধ্যমে হাঁটার পথ, বিশ্রামস্থল ও মনোমুগ্ধকর বিনোদন স্পট তৈরি করা হচ্ছে – যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে। বাঁধটি রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি এবং বনরূপার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সংযোগস্থল।

দুই পাশে কাপ্তাই হ্রদের বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি ও পাহাড়ি দৃশ্যপট দীর্ঘদিন ধরে এই বাঁধকে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। কিন্তু বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় এটি ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। তখন আপৎকালীন ভিত্তিতে সওজ বাঁধে খুঁটি বসিয়ে যান চলাচল চালু রেখেছিল।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, রাঙামাটি পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলেও কোনো স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। অবশেষে ২০১৭ সালের ১৩ জুন পাহাড় ধসে ১৫১টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই বাঁধটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয় সওজ।

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, ফিশারি বাঁধ শুধু একটি সড়ক নয়, এটি রাঙামাটির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জীবনের অংশ। এটি নিরাপদ, টেকসই এবং পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। প্রকল্পের কাজ আগামী জুনের মধ্যেই শেষ হবে বলেও তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here