রাজধানীর বনানী এলাকার হোটেল জাকারিয়ায় হামলার শিকার দুই নারী ছিলেন অতিথি, জানিয়েছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। হামলা ও হোটেল ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
জাকারিয়া হোটেল সূত্রে জানা গেছে, হামলার শিকার দুই নারী অতিথি হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেখা যায়, দুই নারী আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করছেন এবং তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়।
ঘটনাটি ১ জুলাই রাতে ঘটেছে, যখন মনির হোসেন নামে এক যুবকের নেতৃত্বে একটি দল হোটেল জাকারিয়ায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তবে মনিরের রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংগঠন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, শাড়ি পরা এক নারী আতঙ্কিত হয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন এবং একটি ব্যক্তি তার পথ রোধ করে তাকে আঘাত করেন, ফলে ওই নারী মেঝেতে পড়ে যান। আরও এক নারী দৌড়ে নামার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং হামলাকারীরা তাদের বেধড়ক মারধর করেন। ভিডিওতে ৮-১০ জন হামলাকারীকে দেখা যায়।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এ ঘটনায় মামলার পরও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা বলেন, আক্রান্ত দুই নারী হোটেলের কর্মী নন, তারা ছিলেন অতিথি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মনির হোসেন ৩০ জুন হোটেল জাকারিয়ায় গিয়ে ভিআইপি রুম ভাড়া চেয়েছিলেন, কিন্তু রুম না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে হোটেল ও বারে ভাঙচুর চালান। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং নগদ টাকা ও মদ চুরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় ২ জুলাই বনানী থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, যুবদল মনির হোসেনকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।










