মার্কিন শেয়ারবাজার বর্তমানে আর্নিংস সিজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—এ সময় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করে। এখন পর্যন্ত S&P 500-এর প্রায় ২৮% কোম্পানি রিপোর্ট দিয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ৮৪% ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে গত এক বছরে সম্মিলিত মুনাফা প্রায় ১৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, যেমন মুদ্রাস্ফীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অচলাবস্থা বিদ্যমান, তবুও অনেক বড় কোম্পানি শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে।
AI বুমে এগিয়ে TSMC
বিশ্বের বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা TSMC কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে বড় সুবিধা পাচ্ছে। AI-সম্পর্কিত চিপ উৎপাদনে প্রায় ৭০% মার্কেট শেয়ার থাকা এই কোম্পানিটি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩৫.৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব অর্জন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১% বেশি। কোম্পানির লাভের মার্জিনও বেড়ে ৫০.৫%-এ পৌঁছেছে। তবে AI চাহিদা কমে গেলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব সরাসরি কোম্পানির আয়ে পড়তে পারে।
স্ট্রিমিং দুনিয়ায় শীর্ষে Netflix
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতায় Netflix এখনও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। কোম্পানির রাজস্ব বছরে ১৬% বৃদ্ধি পেয়ে ১২.২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, আর মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞাপন ও লাইভ ইভেন্টের মতো নতুন ব্যবসা খাতও দ্রুত বাড়ছে, যেখানে বিজ্ঞাপন আয়ের পরিমাণ চলতি বছরে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে, বিশেষ করে Paramount Global এবং Warner Bros. Discovery একীভূত হয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
স্বর্ণে উজ্জ্বল Newmont
বিশ্বের বৃহত্তম স্বর্ণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান Newmont একটি শক্তিশালী প্রান্তিক পার করেছে। ২০২৩ সালে Newcrest Mining অধিগ্রহণের পর কোম্পানির মুনাফা ৭৩% বেড়ে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ২,৯৪৪ ডলার থেকে বেড়ে ৪,৯০০ ডলারে পৌঁছানোয় এই প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য লাভের মুখ দেখছেন।
প্রবৃদ্ধি থাকলেও চাপের মুখে Spotify
বিশ্বের বৃহত্তম মিউজিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম Spotify ব্যবহারকারী সংখ্যা ও রাজস্ব—দুই ক্ষেত্রেই ভালো প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী বেড়ে ৭৬১ মিলিয়নে পৌঁছেছে এবং পেইড সাবস্ক্রাইবার ২৯৩ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। রাজস্ব ৮% এবং মুনাফা ৪০% বাড়লেও, কোম্পানির শেয়ারদর ১৩% কমেছে। এর মূল কারণ বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ—বিশ্বের প্রায় ১০% মানুষ ইতোমধ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে, ফলে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা
আর্নিংস সিজনে শেয়ারবাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক। তাই এই সময়ে হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উচিত ধৈর্য ধরে কোম্পানির মৌলিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা। নিজেদের বিনিয়োগ কৌশলের সাথে নতুন তথ্য কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে নেওয়ার জন্যও এটি একটি উপযুক্ত সময়।










