Home Economics হরমুজ সংকটে দক্ষিণ কোরিয়া চাপে: জ্বালানি দামে রেকর্ড, নাগরিকদের জন্য জরুরি সহায়তা

হরমুজ সংকটে দক্ষিণ কোরিয়া চাপে: জ্বালানি দামে রেকর্ড, নাগরিকদের জন্য জরুরি সহায়তা

21
0

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং Strait of Hormuz অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে South Korea, যারা আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এই সংকট মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার নাগরিকদের জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা চালু করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Lee Jae-myung পরিস্থিতিকে “যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক সংকট” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রাজধানী সিউলে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে এপ্রিল মাসে প্রতি লিটার পেট্রোলের মূল্য ২,০০০ ওন ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

সরকার সাধারণ জনগণের চাপ কমাতে ১ লাখ থেকে ৬ লাখ ওন পর্যন্ত নগদ সহায়তা দিচ্ছে, যা ব্যক্তিগত অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে। প্রায় ৭০% জনগণকে এই সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এই সংকট আরও গুরুতর, কারণ দেশটি তার প্রায় সব জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্য থেকেই তাদের প্রায় ৭০% তেল এবং ২০% Liquefied Natural Gas আসে। ফলে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বেশ কিছু কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির নম্বরপ্লেট অনুযায়ী চলাচল সীমিত করার ব্যবস্থা, যাতে জ্বালানির ব্যবহার কমানো যায়। পাশাপাশি, LNG-এর ওপর নির্ভরতা কমাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের জ্বালানি আমদানির উৎস বৈচিত্র্য করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল আমদানি বাড়ানো হয়েছে, যা এখন দেশটির ন্যাফথা আমদানির একটি বড় অংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পৌঁছাতে সাধারণত ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগে, যা অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

এই সংকটের প্রভাব Australia-এর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩০% ডিজেল এবং ২২% পেট্রোল সরবরাহ করে। যদিও জ্বালানির ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দক্ষিণ কোরিয়া অস্ট্রেলিয়ায় সরবরাহ বন্ধ করবে না। দুই দেশই স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকার অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির ব্যবস্থা করেছে চাপ কমাতে।

সার্বিকভাবে, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি নির্ভরতার ঝুঁকি এবং বিকল্প জ্বালানি কৌশলের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here