Home Economics “রেকর্ড ভ্যালুয়েশনে মার্কিন শেয়ারবাজার: সামনে কি বড় ধস?”

“রেকর্ড ভ্যালুয়েশনে মার্কিন শেয়ারবাজার: সামনে কি বড় ধস?”

22
0

মার্কিন শেয়ারবাজার বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম উচ্চ মূল্যায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে S&P 500 এবং NASDAQ—উভয় সূচকই অস্বাভাবিক উচ্চতায় অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই অতিরিক্ত মূল্যায়ন সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে Shiller CAPE Ratio বা সাইক্লিক্যালি অ্যাডজাস্টেড প্রাইস-টু-আর্নিংস সূচকের মাধ্যমে। ২০২৬ সালের শুরুতে এই সূচক প্রায় ৩৯ গুণে পৌঁছেছে, যা ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় প্রায় ১২১% বেশি এবং ইতিহাসের শীর্ষ ১% ব্যয়বহুল সময়ের মধ্যে পড়ে।

এর আগে এমন উচ্চ মূল্যায়ন দেখা গিয়েছিল ১৯৯৯ সালের Dot-com Bubble সময়। সেই সময় NASDAQ-এর CAPE প্রায় ৪৪.২ গুণে পৌঁছেছিল, এরপর বাজারে বড় ধরনের ধস নেমে সূচক প্রায় ৭৮% পর্যন্ত পড়ে যায়। তাই বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বিশ্লেষকের কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, যখন CAPE অনুপাত ৯.৬-এর নিচে থাকে, তখন আগামী ১০ বছরে গড়ে প্রায় ৯.৮% রিটার্ন পাওয়া যায়। কিন্তু এই অনুপাত যখন ২৫-এর ওপরে উঠে যায়, তখন রিটার্ন নাটকীয়ভাবে কমে প্রায় ০.৫%-এ নেমে আসে। এমনকি Goldman Sachs-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী এক দশকে বার্ষিক গড় রিটার্ন মাত্র ৩% হতে পারে।

অন্যদিকে, কিছু বিনিয়োগকারী মনে করেন যে কম সুদের হার, শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানির আয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর প্রবৃদ্ধি বর্তমান উচ্চ মূল্যায়নকে যৌক্তিক করে তুলতে পারে। তবে সমালোচকদের মতে, বাজার ইতোমধ্যেই এই ইতিবাচক সম্ভাবনাগুলোকে আগাম হিসাব করে ফেলেছে।

ডট-কম যুগের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয় যে, অনেক প্রযুক্তি কোম্পানিকে তখন এমনভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল যেন তারা ইতোমধ্যেই সফলতার শিখরে পৌঁছে গেছে—কিন্তু বাস্তবে অনেকেই পরে ধসে পড়ে বা দেউলিয়া হয়ে যায়। বর্তমান AI-নির্ভর প্রবৃদ্ধিও শক্তিশালী হলেও, সেটি হয়তো এত উচ্চ মূল্যায়নকে পুরোপুরি সমর্থন করতে পারবে না।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভ্যালুয়েশন কখনোই বাজার ধসের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করতে পারে না। অর্থাৎ, কখন সংশোধন (correction) হবে তা বলা কঠিন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজারে একটি বড় ধরনের পতন সামনে আসতে পারে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সম্ভাব্য অস্থিরতার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here