অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি। রাজ্যের মধ্য উত্তর উপকূল এবং হান্টার অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে একজনের মৃত্যু এবং তিনজনের নিখোঁজ হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। টারি অঞ্চলের মটোতে একটি বন্যাকবলিত বাড়ি থেকে ৬৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডরিগো, ওয়াকোপ এবং হান্টার অঞ্চলে আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রায় ৫০,০০০ মানুষ তাদের নিজ নিজ এলাকায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন, অনেকেই বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে অপেক্ষা করছেন উদ্ধারকারীদের জন্য।
নিউ সাউথ ওয়েলস স্টেট ইমারজেন্সি সার্ভিস (SES) জানিয়েছে যে তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০০-রও বেশি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার, নৌকা ও প্রশিক্ষিত কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ২,৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং রাস্তা, সেতু ও বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে। ৫,০০০-এর বেশি বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং অন্তত ১৪৫টি স্কুল বন্ধ রয়েছে।
আবহাওয়া ব্যুরো জানিয়েছে, কিছু অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতেও ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। Manning এবং Macleay নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে উঠে গেছে এবং Manning নদী তার ১৯২৯ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে জরুরি বন্যা সতর্কতা এবং কিছু এলাকায় বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং পরিস্থিতিকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স একে “গুরুতর প্রাকৃতিক দুর্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রশাসন সবাইকে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে এবং প্রয়োজন হলে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে। এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিত, তবে সক্রিয় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।










