Home বাংলাদেশ National ইউরোপে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ

ইউরোপে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ

125
0

স্বাধীনতার ৫৪ বছরে প্রথমবারের মতো ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে এই সুযোগ মিলবে, যা ইউরোপের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তেজনা ও উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে।

ধানের শীষ, শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে ইউরোপজুড়ে প্রবাসী রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সমর্থকেরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ছুটির দিনগুলোতে বাঙালিপূর্ণ এলাকা, মসজিদ ও রেস্টুরেন্টগুলোতে নির্বাচনী আলোচনা ও প্রচারণা জোরালোভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইতালি, পর্তুগাল, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক ও স্পেনসহ ইউরোপের নানা দেশে প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠনগুলোতে দেখা যাচ্ছে, প্রথমবারের এই ভোটাধিকার প্রবাসীদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন মোবাইল নম্বর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক আয়োজনে ভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

ফলে ইউরোপের বাংলা কমিউনিটিতে এক নতুন নির্বাচনমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি ও অন্যান্য দলের অবস্থান
বিএনপির ইউরোপ শাখা বলছে, প্রবাসীরা তথাকথিত ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে না; বরং ধানের শীষই হবে তাদের পছন্দ। তবে ব্যাপক সমর্থক থাকা সত্ত্বেও ইউরোপে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো এখনো শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারেনি। নেতারা এটিকে দলের বিভক্ত নেতৃত্ব, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব এবং পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত করছেন।

বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য দেওয়ান শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, তবে এটি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নির্বাচনই গণতন্ত্রের পথ, তাই প্রবাসীদের ভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছি। কিভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে, ব্যালটে সঠিকভাবে টিক দিতে হবে ও সময়মতো তা ফেরত পাঠাতে হবে—এসব বিষয় নিয়েও প্রচারণা চালাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “প্রবাসীরা শুধু ভোটার নন, তাদের পরিবারেরাও নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ। তাই ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

জার্মানির বিএনপি নেতা সাব্বির আহম্মেদ জানান, জার্মানির বিভিন্ন শহরে ভোটার নিবন্ধনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশবিরোধী অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রবাসীদের সচেতন করা হচ্ছে এবং কমিউনিটি সেন্টারে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে ধানের শীষে ভোট চাওয়া হচ্ছে।

দাঁড়িপাল্লা ও এনসিপির তৎপরতা
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে কাজ করা প্রবাসীরা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের দলীয় কৌশলের আদলে জনসংযোগ চালাচ্ছেন। তারা ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতি তুলে ধরছেন এবং সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন।

জার্মানির ইয়াং মুসলিম ফোরামের নেতা মাহবুব উল্লাহ খান মাসুম বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায় এবং সে জন্য রক্ত দিয়েছে। জনগণ এবার দুর্নীতি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে ভোট দেবে।”

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), যারা জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে, ইউরোপে প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।

ইতালির এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের সভাপতি রাসেল মুহাম্মদ বলেন, “নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণরা রাস্তায় নেমেছে। এনসিপির সক্রিয়তা এবং তরুণ নেতৃত্বের কারণে প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের অধিকার পেয়েছেন। ইতালিতে আমরা ভোটার রেজিস্ট্রেশনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি এবং বিশ্বাস করি, এবার প্রবাসীরা তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এনসিপিকে ভোট দেবেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here