বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক শোকাবহ দিন। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগসহ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
এক সময়ের গৃহবধূ থেকে স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠা বেগম জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ আর আদর্শের এক বিরল উদাহরণ। ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং আর্থ-সামাজিক খাতে নানা সংস্কার সাধন করেন।
তিনি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানে ছিলেন, এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েও কখনো নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। কারাবাস, গৃহবন্দিত্ব, সন্তানহানিসহ নানাবিধ নির্যাতনের মধ্যেও তিনি সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে তিনি মুক্তি পান। এরপর তার আহ্বান ছিল প্রতিশোধ নয়, বরং শান্তি ও পুনর্গঠনের। আন্তর্জাতিকভাবে তিনি সম্মানিত হয়েছেন গণতন্ত্রের এক গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে।
আজ তার প্রস্থানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবসান ঘটলো এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের। কিন্তু তার রেখে যাওয়া আদর্শ, ত্যাগ এবং গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে থাকবে।










