Home বিশ্ব কীভাবে ইসরায়েলের কৌশলে ফেঁসে গেলেন ট্রাম্প

কীভাবে ইসরায়েলের কৌশলে ফেঁসে গেলেন ট্রাম্প

253
0

ইরান-ইসরায়েলের চলমান সামরিক সংঘাত হঠাৎ করেই শুরু হয়নি; এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পটভূমি, যার সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরমাণু আলোচনার সময় নেওয়া এক সিদ্ধান্ত থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংক কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মনে করেন, ইরানের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় ট্রাম্প যে শর্ত দিয়েছিলেন—ইরান একেবারেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না—তা ইসরায়েলের সাজানো ফাঁদের অংশ ছিল।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পারসি লেখেন, ট্রাম্পের এই কঠোর ও বাস্তবতা বিবর্জিত শর্তই পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।

তার মতে, ইসরায়েল জানত যে ইরান কখনোই এই শর্ত মানবে না, যদি না যুদ্ধ বাধে। আলোচনা অচল হয়ে পড়ার পর ট্রাম্প বিরক্ত হন এবং ইসরায়েলের প্ররোচনায় ইরানের ওপর হামলার অনুমোদন দেন।

পারসি আরও লিখেছেন, ইসরায়েল তখন যুক্তি দেয় যে হামলা চালালে ইরান নতি স্বীকার করবে। কিন্তু বাস্তবে ইরান আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং ইসরায়েলের দিকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।

তিনি বলেন, হামলা শুরু হলে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে জানায় যে, এই যুদ্ধ থামানোর জন্য আমেরিকাকেই সরাসরি জড়াতে হবে। পারসির দাবি অনুযায়ী, পুরো বিষয়টি ইসরায়েলের পরিকল্পিত কৌশলের অংশ ছিল।

তিনি যোগ করেন, ট্রাম্প যদি এমন অবাস্তব শর্ত না দিতেন, তাহলে হয়তো ইতিমধ্যে পরমাণু চুক্তি সম্ভব হতো।

ইরান দাবি করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। সে কারণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানায় তারা, যার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান ও আলজেরিয়া।

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেন, “আমরা (এই সংঘাতে) জড়াতে পারি, নাও পারি। কেউ জানে না আমি কী সিদ্ধান্ত নেব।”

তার এমন মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি মিশন। যদিও ট্রাম্প কখনও চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেন, আবার পরক্ষণেই ভিন্ন মন্তব্য করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here