সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুইনোয়া, স্পেল্ট এবং অন্যান্য প্রাচীন শস্য (Ancient Grains) স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই এগুলোকে “সুপারফুড” হিসেবে প্রচার করছেন, কারণ এগুলো সাধারণ শস্যের তুলনায় বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ বলে দাবি করা হয়।
পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাচীন শস্য সাধারণত কম প্রক্রিয়াজাত হয় এবং এতে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ তুলনামূলক বেশি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, কুইনোয়া উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি ভালো উৎস, যা হৃদ্স্বাস্থ্য ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, “সুপারফুড” শব্দটি অনেক সময় বাজারজাতকরণের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। সব প্রাচীন শস্য আধুনিক শস্যের তুলনায় অবশ্যই বেশি স্বাস্থ্যকর—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সব ক্ষেত্রে নেই। অনেক সময় পুরো শস্য হিসেবে খাওয়া আধুনিক গম বা ওটসও একই ধরনের পুষ্টি দিতে পারে।
গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের মূল চাবিকাঠি হলো বৈচিত্র্যময় ও সুষম খাদ্যাভ্যাস। কুইনোয়া বা স্পেল্টের মতো প্রাচীন শস্য পুষ্টিকর হলেও এগুলো একাই স্বাস্থ্যকর জীবনের সমাধান নয়; বরং বিভিন্ন ধরনের পূর্ণ শস্য ও পুষ্টিকর খাবার মিলিয়ে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
✔️ ফলে অনেকের কাছে প্রাচীন শস্য “সুপারফুড” হিসেবে পরিচিত হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে এগুলোকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের একটি অংশ হিসেবে দেখা উচিত—কোনো অলৌকিক সমাধান হিসেবে নয়।










