Home এশিয়া পেসিফিক বন্দুক হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুয়ো কুণ্ঠায় পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বন্দুক হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুয়ো কুণ্ঠায় পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

154
0

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে বন্দুক হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে দর্শকদের অসন্তোষের মুখে পড়েন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। সপ্তাহখানেক আগে হানুক্কা উৎসব চলাকালে এই সৈকতেই দুই বন্দুকধারীর হামলায় প্রাণ হারান ১৫ জন, আহত হন আরও অনেকে—যাদের বেশিরভাগই ছিলেন ইহুদি।

এই হামলার এক সপ্তাহ পূর্তিতে গত রবিবার অস্ট্রেলিয়াজুড়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়। সরকারি ভবনগুলোতে অর্ধনমিত রাখা হয় জাতীয় পতাকা, আর সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে—যে সময় হামলা শুরু হয়েছিল—এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়।

বন্ডাই সৈকতে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশপাশের ভবনের ছাদে মোতায়েন করা হয়েছিল স্নাইপার, আর সাগরে ছিল নৌ-পুলিশ।

যখন আলবানিজ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান, তখন অনেকেই দুয়ো দেন। যদিও বক্তৃতার তালিকায় তার নাম ছিল না, একপর্যায়ে তাকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য মঞ্চে ডাকা হলে দর্শকদের মধ্য থেকে আরও জোরালোভাবে দুয়ো ধ্বনি উঠে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা আলবানিজের মাথায় দেখা যায় ইহুদি ঐতিহ্যের প্রতীক ‘কিপ্পা’ টুপি।

ইসরায়েলের গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা আলবানিজের মধ্য-বামপন্থী সরকারের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্ডাইয়ের হামলার পর এই সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সরকার ইহুদিবিদ্বেষ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার দাবি করছে, গত দুই বছরে তারা ধারাবাহিকভাবে ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে আইন প্রণয়ন করেছে। এমনকি চলতি বছরের শুরুতে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইরানি রাষ্ট্রদূতকেও বহিষ্কার করে সরকার।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের জিউয়িশ বোর্ড অব ডেপুটিজের সভাপতি ডেভিড অসিপ বলেন, “আমরা নিরাপদ থাকার অনুভূতি হারিয়েছি। এই সপ্তাহ আমাদের সেই নিরাপত্তাবোধ কেড়ে নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বন্ডাইয়ের এই ঘাসের মতো আমাদের জাতির ওপরও রক্তের দাগ লেগেছে। তবে হানুক্কার শিক্ষা হলো—আলো দিয়ে অন্ধকার দূর করা যায়। একটি সাহসী পদক্ষেপ এবং আশার আলো আমাদের পথ দেখাতে পারে।”

হামলার দিন সাহসিকতার পরিচয় দেওয়া আহমেদ আল আহমেদ নামের এক ব্যক্তি এক বন্দুকধারীকে নিরস্ত্র করেন। আহত এই ব্যক্তি বর্তমানে বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন। তার বাবা স্মরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বন্দুক হামলাটি হানুক্কার প্রথম দিনেই সংঘটিত হয়েছিল। রোববার ছিল ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের অষ্টম ও শেষ দিন। এই উপলক্ষে নাগরিকদের ঘরে ঘরে মোমবাতি জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বন্দুক হামলায় আহত ১৪ বছর বয়সী চায়া দাদোন বলেন, “আমরা একটি জাতি হিসেবে আরও দৃঢ় হচ্ছি। কখনও কখনও ব্যথা পেতে হয়, তবে জীবন থেমে থাকে না। তাহলে কেন আমরা আমাদের জীবনটা সর্বোচ্চভাবে উপভোগ করব না?”

স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ নিরাপত্তা সংস্থা ও গোয়েন্দা বিভাগগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। এর আগে তিনি অস্ত্র আইনে আরও কড়াকড়ির প্রতিশ্রুতি দেন।

অন্যদিকে রবিবার সকালেই সিডনি ও মেলবোর্নে অভিবাসনবিরোধী ছোট আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যাতে মাত্র ২০০ জন অংশ নেন। এই বিক্ষোভেরও কড়া সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বন্ডাইয়ের বন্দুক হামলার পেছনে থাকা দুই হামলাকারী ছিলেন বাবা-ছেলে। ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন, আর ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সাজিদ আকরামের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদসহ মোট ৫৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here