সম্প্রতি বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইলিটোভা চীন সফর করেছেন। সফরকালে, তিনি চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বুলগেরিয়া ও চীনের সম্পর্ক নিয়ে তার মতামত তুলে ধরেন এবং এই সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গত অক্টোবরে চীনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব নারী শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইলিটোভা জানান, “সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বলেছিলেন, নারীদের স্বার্থ নিশ্চিত করা এবং নারী বিষয়ক কার্যক্রমের উন্নয়ন বিশ্বের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের সম্মেলনে গত ৩০ বছরে নারীদের উন্নয়নের সার্বিক পর্যালোচনা করা হয়েছে। আমাদের উচিত আগামী ৩০ বছরে আরও দ্রুত ও সক্রিয়ভাবে এই কাজকে এগিয়ে নেওয়া।”
এছাড়াও, সাক্ষাৎকারে ইলিটোভা বলেন, ২০২৫ সাল হবে বুলগেরিয়া ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৭৬তম বার্ষিকী। ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ এবং পরিবর্তনের পরও, ৭৬ বছরে বুলগেরিয়া-চীন সম্পর্ক প্রমাণ করেছে যে, দুটি দেশ একে অপরের বোঝাপড়া এবং সমৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম। তিনি বুলগেরিয়া ও চীনের মধ্যে অর্থনীতি, অবকাঠামো, ব্যবসায়িক প্রকল্প, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং সংস্কৃতির মতো বহু যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া—এদের মাধ্যমে আমরা সবকিছু অর্জন করতে পারি। আমি বুলগেরিয়ায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও বিনিয়োগ এবং ব্যবসা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ইলিটোভা বলেন, বুলগেরিয়া এই উদ্যোগের অংশগ্রহণকারী দেশ। বর্তমানে দুই দেশের উচিত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা।
সবুজ উন্নয়ন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইলিটোভা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও ইউরোপের সহযোগিতায় ‘সবুজ উন্নয়ন’ একটি মূলমন্ত্র হয়ে উঠেছে। বুলগেরিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে ‘ইউরোপিয়ান গ্রিন ডিল’ স্বাক্ষর করেছে। তিনি জানান, “এই প্রজন্মের দায়িত্ব পৃথিবীকে রক্ষা করা। বিভিন্ন দেশ কঠোর জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। তাই বুলগেরিয়া সবুজ নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করছে, যেমন—সবুজ জ্বালানি এবং ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।”










