হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানি পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ জব্দ করে নিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জাহাজটি হরমুজে নৌ অবরোধ কার্যকর করার অংশ হিসেবে থামতে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও জাহাজটি নির্দেশ মানেনি। এরপর মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার জাহাজ থেকে জাহাজটির ইঞ্জিন রুম খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ৫ ইঞ্চি এমকে ৪৫ গান থেকে গুলি চালিয়ে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আঘাত করা হয়, যাতে জাহাজটির চলাচল অক্ষম হয়ে পড়ে। অবশেষে মেরিন সেনারা জাহাজে উঠে এর নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমানে জাহাজটি সম্পূর্ণরূপে মার্কিন হেফাজতে রয়েছে।
জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং ইরানের বন্দর অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনী এ ঘটনাকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী আচরণ বলে উল্লেখ করে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে জানানো হয়েছে যে, নিজেদের কার্গো জাহাজ জব্দের পাল্টা জবাবে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে ড্রোন হামলায় যুদ্ধজাহাজের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না বা কতটুকু ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এ ঘটনায় চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিও জিয়াকুন বলেছেন, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জটিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘জোরপূর্বক আটক’কে নিন্দা জানিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি বা দ্বন্দ্ব আরও তীব্র করা থেকে বিরত থাকতে হবে। হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ, এর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা আঞ্চলিক দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের বিষয়। চীন আশা প্রকাশ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো উত্তেজনা না বাড়িয়ে প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল পুনরায় চালু করার পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের এই নতুন অধ্যায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










