Home Economics লঞ্চ ভাড়া ৪২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের, ডিজেল মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন সংকট

লঞ্চ ভাড়া ৪২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের, ডিজেল মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন সংকট

20
0

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা। সরকারের ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে তারা ভাড়া সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. বদিউজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মালিকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, গ্যাস, রং এবং রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির কারণে সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মহাসচিব সিদ্দিকুর রহমান একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে গড়ে ১৪০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। লিটারে ১৫ টাকা বাড়তি ধরলে প্রতি ট্রিপে শুধু জ্বালানি খরচই বাড়ছে ২১ হাজার টাকা। এছাড়া পদ্মা সেতুসহ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের ফলে নৌপথে যাত্রী সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় মালিকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

লঞ্চমালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী ভাড়ার নতুন কাঠামো নিম্নরূপ: ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ (৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি)। ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা বাড়িয়ে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা (৪২ শতাংশ বৃদ্ধি)। সর্বনিম্ন ভাড়া বর্তমানের ২৯ টাকার পরিবর্তে ৩৫ টাকা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ এ প্রস্তাব পর্যালোচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সাধারণ যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে। অভ্যন্তরীণ নৌপথ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য। ডিজেল মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু লঞ্চ মালিকদের নয়, সার্বিক পরিবহন খাতকেও প্রভাবিত করছে। মালিকদের দাবি অনুসারে ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া সমন্বয় না করলে নৌপথে পরিবহন সেবা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যাত্রী-মালিক উভয়পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণ করে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here