অস্ট্রেলিয়ার জিওসায়েন্স অনুসারে, শনিবার ভোরে নিউ সাউথ ওয়েলসের পশ্চিমাঞ্চলের ওরানা অঞ্চলের একটি দূরবর্তী এলাকায় ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এটি স্থানীয় সময় রাত ২:৩০টার একটু পরে ঘটে, নিঙ্গানের প্রায় ৯০ কিলোমিটার উত্তর ও বর্ক থেকে ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে।
প্রায় সাত মিনিট পর ৪.২ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হয় এবং সকাল ৫:৩০টার দিকে আরও একটি ৩.৭ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।
জিওসায়েন্স অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র সিসমোলজিস্ট ট্রেভর অ্যালেন জানান, শত শত মানুষ ভূমিকম্প অনুভব করেছেন বলে তাদের ওয়েবসাইটে রিপোর্ট করেছেন।
“এটি একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্প,” বলেন ড. অ্যালেন।
সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট এসেছে ডাবো এলাকা থেকে, যা ভূকম্পনের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে। এমনকি সিডনি থেকেও, যা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে, কিছু রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ড. অ্যালেন বলেন, “বেশিরভাগ রিপোর্টই এসেছে দূরের এলাকা থেকে এবং কম্পন ছিল হালকা, তাই বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।”
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
অনেকেই ABC Western Plains-এর ফেসবুক পেজে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।
কন্ডোবোলিনে জানালার কাচ কেঁপেছে, ওয়ালগেটে দরজা দুলেছে, বুগালডিতে বিছানার শব্দ হয়েছে, নারাব্রিতে তাক থেকে কাঠের হাঁস পড়ে গেছে, এবং বিঙ্গারা ও ওয়ারিয়ালদায় ঘরের কাঠামো কেঁপে উঠেছে।
ট্রান্ডলে কেউ ভেবেছেন, হয়তো কাছ দিয়ে শস্যবাহী ট্রাক যাচ্ছে। ডাবোতে অনেকেই ৩০ সেকেন্ড ধরে কাঁপুনি অনুভব করেছেন। উই ওয়া এবং মাইটল্যান্ড পর্যন্তও কম্পন অনুভূত হয়েছে—একজন বলেন, ওয়ারড্রোব কেঁপে উঠেছিল। ডাবোর আরেকজন জানান, তার ঘর কেঁপেছে এবং পোষা প্রাণীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এই অঞ্চলে ভূমিকম্প বিরল
ড. অ্যালেন বলেন, “অস্ট্রেলিয়া টেকটনিক প্লেট সীমান্ত থেকে অনেক দূরে হলেও প্রাচীন ভূত্বকে চাপ জমে ওঠে, যা বিদ্যমান ফল্ট লাইনের মাধ্যমে ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে।”
গত ২৫ বছরে এই সপ্তাহান্তের ভূমিকম্পের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১২টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে। এর আগের উল্লেখযোগ্য কম্পন হয়েছিল ১৯৬১ সালে, কুন্যাম্বল বেসিন এলাকায়।
তিনি আরও জানান, আফটারশক কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে, তবে সেগুলোর তীব্রতা ও ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমে যাবে।
ড. অ্যালেন যাদের ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, তাদের জিওসায়েন্স অস্ট্রেলিয়ায় রিপোর্ট জমা দেওয়ার এবং প্রাথমিক সুরক্ষা নির্দেশিকা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন: “নিচে ঝুঁকে পড়ুন, কিছু দিয়ে ঢেকে ফেলুন, এবং ধরে থাকুন।”
তিনি বলেন, “অনেক সময় ক্ষয়ক্ষতি হয় না বিল্ডিং ভেঙে পড়ায়, বরং ফিটিংস, তাক, বা এসি ডাক্টের মতো অনাকাঠামোগত বস্তু পড়ে যাওয়ায়।”










