Home বাংলাদেশ National হাদিকে গুলির ঘটনায় শ্যুটার ফয়সালের মা-বাবা গ্রেপ্তার

হাদিকে গুলির ঘটনায় শ্যুটার ফয়সালের মা-বাবা গ্রেপ্তার

103
0

ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন—ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০) এবং মা হাসি বেগম (৬০)। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৫টায় র‍্যাব-১০ একটি বিশেষ অভিযানে ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত ফয়সালের পালানোর সহায়তায় পরিবার

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ফয়সাল করিম চার ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয়। তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বোন জেসমিন আক্তারের সপ্তম তলার বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করতেন। ঘটনার দিন রাতে একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ওই বাসায় ওঠেন এবং তা ভবনের ফাঁকা জায়গায় ফেলে দেন। পরে ভাগনে জামিলকে দিয়ে ব্যাগটি আবার আনিয়ে নেন। ফয়সাল তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনের একটি ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেন এবং অপরটি মা হাসি বেগমের কাছে দেন।

পরবর্তী সময়ে, নিরাপত্তা হুমকি মনে করে আগারগাঁও থেকে মিরপুর এবং পরে শাহজাদপুরে চাচাতো ভাই আরিফের বাসায় আশ্রয় নেন ফয়সাল। এ সময় বাবা হুমায়ুন কবির তার ব্যাগ বহনের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে দেন এবং অর্থ সহায়তাও করেন। এরপর তাঁরা কেরানীগঞ্জে ছোট ছেলে বাবলুর বাসায় যান এবং জুরাইন থেকে দুটি নতুন সিম কিনে ব্যবহার শুরু করেন।

গ্রেপ্তারের পর ফয়সালের মা ও বাবাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের নেতা হাদি এখন সংকটাপন্ন

শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান আহ্বায়ক। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং নিয়মিত গণসংযোগে অংশ নিচ্ছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে। গুলিটি তাঁর মাথায় লাগে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় আছেন।

সূত্রগুলো জানায়, অভিযুক্ত ফয়সাল করিম হাদির সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশ তাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তথ্য আহ্বান করেছে। ফয়সাল করিম অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর-আদাবর শাখার একজন নেতা ছিলেন বলেও জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here