ফুটবলের রূপকথার মতো এক যাত্রা সম্পূর্ণ করলেন Antoine Semenyo। FA Cup Final-এ Manchester City-এর হয়ে জয়সূচক গোল করে তিনি শুধু দলকে শিরোপা এনে দেননি, বরং নিজের সংগ্রামী ক্যারিয়ারের এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়ও পূর্ণ করেছেন।
Chelsea FC-এর বিপক্ষে Wembley Stadium-এ হওয়া ফাইনালে Semenyo’র সেই একমাত্র গোলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
আজকের এই গৌরবময় মুহূর্তের সঙ্গে সাত বছর আগের Semenyo’র জীবন যেন একেবারেই মেলে না।
একসময় তিনি ইংল্যান্ডের নন-লিগ ফুটবলে খুব অল্প দর্শকের সামনে খেলতেন। Newport County AFC-এ লোনে থাকা অবস্থায় তিনি খেলেছিলেন Metropolitan Police FC-এর মাঠে একটি FA Cup ম্যাচে।
সেই ছোট্ট মাঠে দাঁড়িয়ে হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি যে একদিন এই তরুণই Wembley-তে FA Cup ফাইনালের নায়ক হয়ে উঠবেন।
Metropolitan Police FC মূলত লন্ডনের পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে ঐতিহাসিকভাবে যুক্ত একটি ছোট ক্লাব, যেখানে নিয়মিত ১০০ জনেরও কম দর্শক ম্যাচ দেখতে আসে।
কিন্তু Semenyo’র ফুটবল যাত্রার অন্যতম ভিত্তি তৈরি হয়েছিল সেই বিনয়ী পরিবেশেই।
Ghana জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ডের পথচলা কখনোই সহজ ছিল না।
কৈশোরে তিনি Arsenal FC, Tottenham Hotspur FC, Crystal Palace FC এবং Millwall FC-এর মতো বড় ক্লাব থেকে প্রত্যাখ্যাত হন।
বারবার “তুমি যথেষ্ট ভালো নও” — এমন কথা শুনতে শুনতে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এবং একসময় নিজের ফুটবল ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চিত হয়ে যান।
সাক্ষাৎকারে Semenyo পরে জানান, কিছু ক্লাব তাকে একাধিকবার ট্রায়ালে ডেকে আবার ফিরিয়ে দিয়েছিল।
তবে সবকিছু বদলাতে শুরু করে যখন তিনি লন্ডন ছেড়ে Swindon-এ চলে যান এবং South Gloucestershire and Stroud College-এ কোচ David Hockaday-এর অধীনে যোগ দেন।
Hockaday পরে Semenyo’র মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে বলেন, অসংখ্য প্রত্যাখ্যানের পরও সে হার মানেনি।
তার প্রকৃত উত্থান শুরু হয় Newport County’র হয়ে দুর্দান্ত FA Cup অভিযানের সময়।
সেই অভিযানে তিনি Wrexham AFC এবং Leicester City FC-এর বিপক্ষে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেন।
এই সময়টিই তার পেশাদার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
পরে Bath City FC এবং Sunderland AFC-এ লোন স্পেল কাটিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের ফুটবল কাঠামোতে উপরে উঠতে থাকেন।
পরবর্তীতে Bristol City FC-এ নিজের অবস্থান শক্ত করেন এবং পরে AFC Bournemouth-এর হয়ে Premier League-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান।
বিশেষ করে Manchester City’র বিপক্ষে তার শক্তিশালী পারফরম্যান্স Pep Guardiola-কে এতটাই মুগ্ধ করে যে তিনি এ বছর Semenyo-কে Etihad Stadium-এ নিয়ে আসেন।
গতি, বহুমুখিতা এবং দুই প্রান্ত থেকেই আক্রমণ করার ক্ষমতার কারণে Semenyo দ্রুত Guardiola’র আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।
FA Cup ফাইনালটি দীর্ঘ সময় বেশ ধীর ও স্নায়ুচাপপূর্ণ ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত Semenyo-ই জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করেন।
Erling Haaland-এর নিচু ক্রস পেয়ে Semenyo অসাধারণ দক্ষতায় ফ্লিক করে বল জালে পাঠান, যা Chelsea’র ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষক দুজনকেই ভুল পথে পাঠিয়ে দেয়।
Chelsea’র অন্তর্বর্তীকালীন কোচ Callum McFarlane পরে বলেন, এমন ফিনিশ থামানো প্রায় অসম্ভব ছিল।
Pep Guardiola-ও Haaland ও Semenyo’র বোঝাপড়ার প্রশংসা করেন। মজা করে তিনি বলেন, “সাধারণত Semenyo-ই Erling-এর জন্য ক্রস দেয়, আজ ভূমিকা উল্টো হয়ে গেছে।”
যদিও City ও Chelsea নিয়মিত বড় ফাইনালে খেলার কারণে ম্যাচটি নিরপেক্ষ দর্শকদের কাছে খুব আলাদা নাও মনে হতে পারে, কিন্তু Semenyo’র ব্যক্তিগত গল্পই পুরো ফাইনালের সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
কাদামাখা নন-লিগ মাঠ থেকে Wembley’র নায়ক হয়ে ওঠা তার এই যাত্রা আবারও মনে করিয়ে দেয় — ফুটবলে স্বপ্ন, সংগ্রাম এবং প্রত্যাখ্যানের পরও সফল হওয়ার সৌন্দর্য কখনো হারিয়ে যায় না।










