Home খেলা ২০৩৪ বিশ্বকাপে মদ বিক্রির গুজব উড়িয়ে দিল সৌদি সরকার

২০৩৪ বিশ্বকাপে মদ বিক্রির গুজব উড়িয়ে দিল সৌদি সরকার

161
0

আসন্ন ২০৩৪ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে সৌদি আরবে চলছে নানা সংস্কারমূলক উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি একটি বিদেশি ওয়াইন ব্লগে দাবি করা হয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশটি পর্যটন এলাকায় মদ বিক্রির অনুমতি দিতে পারে। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দেয়।

সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, মদ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী, মদ মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ—এ নিষেধাজ্ঞা আগের মতোই বলবৎ থাকবে।

সৌদি আরব নিজেকে মক্কা ও মদিনার অভিভাবক হিসেবে দেখায়, যেখানে ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্রতম মসজিদ অবস্থিত। এ কারণে ধর্মীয় বিধিনিষেধের বিষয়ে দেশটি অত্যন্ত কঠোর।

বিষয়টির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আরব নিউজ-কে জানিয়েছে, “ওই দাবিগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক ভিত্তি নেই এবং তা সৌদি সরকারের নীতি বা আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”

উল্লেখযোগ্য, ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে মদ নিষিদ্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট ফ্যান জোনে মদ বিক্রির অনুমতি ছিল। তবে সৌদি আরব সে পথে হাঁটবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রিন্স খালিদ বিন বান্দার বলেন, “সৌদি আরব একটি ‘ড্রাই কান্ট্রি’। আমরা আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ বজায় রেখেই অতিথিদের স্বাগত জানাবো, অন্যদের খুশি করতে গিয়ে নিজেদের সংস্কৃতি পরিবর্তনের কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।”

বর্তমানে সৌদি আরব ও কুয়েত উপসাগরীয় অঞ্চলের দুইটি দেশ, যেখানে মদের বিক্রি একেবারে নিষিদ্ধ। তবে ২০২3 সালে রিয়াদে একটি বিশেষ দোকান খোলা হয়, যেখানে অমুসলিম কূটনীতিকরা সীমিত পরিসরে মদ কিনতে পারেন—আগে যা শুধু কূটনৈতিক প্যাক বা কালোবাজারের মাধ্যমে পাওয়া যেত।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) নেতৃত্বাধীন ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশটি বহু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি, সিনেমা হল চালু, মডেলদের র‍্যাম্পে হাঁটার অনুমোদন, এবং সঙ্গীত উৎসবের আয়োজন।

এছাড়াও নারীদের এককভাবে বিদেশ ভ্রমণের অধিকার, বিবাহ ও জন্ম নিবন্ধন এবং পাবলিক স্থানে নারী-পুরুষের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করাও এই রূপান্তরের অংশ।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সৌদি আরব আরও পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সীমারেখার ভেতর থেকেই এই রূপান্তর ঘটানো হবে, তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে দেশটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here