Home মার্কেট ‘ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছি’: ওয়াল স্ট্রিট ধসের সতর্কবার্তা দিলেন ‘দ্য বিগ শর্ট’ খ্যাত...

‘ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছি’: ওয়াল স্ট্রিট ধসের সতর্কবার্তা দিলেন ‘দ্য বিগ শর্ট’ খ্যাত বিনিয়োগকারী

21
0

বিশ্ববিখ্যাত বিনিয়োগকারী Michael Burry, যিনি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট আগে থেকেই অনুমান করে আলোচনায় আসেন এবং পরে The Big Short সিনেমার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান, এবার নতুন করে ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধসের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজারে যে “অস্বাভাবিক উত্থান” চলছে, তা শেষ পর্যন্ত নাটকীয় পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ উন্মাদনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মূল্যায়নকে বিপজ্জনক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

নিজের সাবস্ট্যাক পোস্টে বুরি বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ২০০০ সালের ডট-কম বুদবুদের চূড়ান্ত পর্যায়ের মতো দেখাচ্ছে—যে সময় প্রযুক্তি শেয়ারের অস্বাভাবিক উত্থানের পর ব্যাপক ধস নেমেছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, মার্চের শেষ থেকে Philadelphia Stock Exchange Semiconductor Index প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ার অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে, যা বাজারে অতিরিক্ত জল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বুরির হিসাব অনুযায়ী, Nasdaq-100 বর্তমানে আয়ের তুলনায় ৪৩ গুণ মূল্যায়নে লেনদেন হচ্ছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে এটি প্রায় ৩০ গুণ হওয়া উচিত। তার অভিযোগ, ওয়াল স্ট্রিট দ্রুতবর্ধনশীল প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আয় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছি। আর শেয়ারবাজারে ইতিহাস সৃষ্টি সাধারণত ভালো সংকেত নয়।”

বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি “ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগের দৃশ্যের” সঙ্গে তুলনা করেছেন।

বুরি একা নন। আরও অনেক বাজার বিশ্লেষক বর্তমানে AI-চালিত শেয়ারবাজার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। Alphabet, Amazon এবং অন্যান্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানির বিপুল AI বিনিয়োগ বাজারকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, বাড়তি তেলের দাম এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপ অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান Sundial Capital Research জানিয়েছে, ইতিহাসে এটি মাত্র চতুর্থবার যখন S&P 500 রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, অথচ সূচকের মাত্র ৫ শতাংশ কোম্পানি ৫২-সপ্তাহের নিম্নস্তরে রয়েছে। এটি বাজারের অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত উত্থানের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে Bespoke Investment Group-এর তথ্য অনুযায়ী, সেমিকন্ডাক্টর সূচকটি তার ২০০ দিনের গড় অবস্থান থেকে এত বেশি দূরে এর আগে মাত্র দুইবার গিয়েছিল—১৯৯৫ সালে এবং ২০০০ সালের মার্চে, যখন ইন্টারনেট বুদবুদের চূড়ান্ত পর্যায় চলছিল।

তবে বুরি বিনিয়োগকারীদের সরাসরি শর্ট সেলিং করতে নিরুৎসাহিত করেছেন। তার মতে, পুট অপশন বা শর্ট ট্রেডিং অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ভুল সময়ে সিদ্ধান্ত নিলে বড় ক্ষতির ঝুঁকি থাকে।

তিনি জানান, তিনি বর্তমানে কিছু “অত্যন্ত সস্তা ও অবমূল্যায়িত” কোম্পানির বিপরীতে বড় ধরনের লিভারেজড শর্ট পজিশন ধরে রেখেছেন, যদিও কোন কোম্পানির কথা বলছেন তা প্রকাশ করেননি।

একই সঙ্গে তিনি প্রযুক্তি খাতসহ অতিরিক্ত মূল্যায়িত শেয়ার থেকে ধীরে ধীরে লাভ তুলে নেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে শেয়ারবাজারে এক্সপোজার কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

বুরি সতর্ক করে বলেন, “অনেকেই মনে করতে পারেন বাজারে এখনও আরও উপরে যাওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু যারা এই অস্বাভাবিক উত্থানে লাভ করছেন, তারা যদি এখন বিক্রি না করেন, তাহলে তারা মূলত বিশ্বাস করছেন যে ঠিক সময়ে বাজারের চূড়া থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন।”

তার মতে, ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে যে এমন অতিরিক্ত উত্থানের শেষ পরিণতি সাধারণত বড় পতনই হয়—তা এক সপ্তাহ, এক মাস বা এক বছর পরেই হোক না কেন।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন এমন এক চরম পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছি, যেখানে এর প্রভাব থেকে লুকিয়ে থাকার সুযোগ থাকবে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here