Home মার্কেট বুদবুদের আশঙ্কা সত্ত্বেও ওয়াল স্ট্রিটের AI শেয়ারে ঝুঁকছেন অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগকারীরা

বুদবুদের আশঙ্কা সত্ত্বেও ওয়াল স্ট্রিটের AI শেয়ারে ঝুঁকছেন অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগকারীরা

18
0

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ঘিরে ওয়াল স্ট্রিটে চলমান প্রযুক্তি উত্থানে বিপুল আগ্রহ দেখাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীরা। বাজারে “বাবল” বা অতিমূল্যায়নের আশঙ্কা বাড়লেও বহু অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানি ও AI-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ পণ্যে অর্থ ঢালছেন।

বিশেষ করে NVIDIA, Microsoft, Alphabet এবং Meta-এর মতো AI খাতের জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর দ্রুত উত্থান অস্ট্রেলিয়ান খুচরা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উন্মাদনা তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিনিয়োগকারী এখন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ETF), প্রযুক্তি শেয়ার এবং AI-কেন্দ্রিক বিনিয়োগ পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। খুচরা বিনিয়োগকারীদের সেবা দেওয়া বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও AI-সম্পর্কিত বিনিয়োগের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

গত দুই বছরে AI-সম্পর্কিত কোম্পানিগুলোর অসাধারণ শেয়ারমূল্য বৃদ্ধিই মূলত এই আগ্রহের বড় কারণ। সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা, ক্লাউড কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠান এবং ডাটা সেন্টার পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো এখন AI বিপ্লবের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা বিশ্বাস করছেন, AI ভবিষ্যতে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা, মিডিয়া এবং আর্থিক খাতসহ প্রায় সব শিল্পকে বদলে দেবে।

তবে বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করছেন, বর্তমান বিনিয়োগ আচরণ অনেকটা ১৯৯০-এর দশকের শেষের “ডট-কম বাবল”-এর মতো হয়ে উঠছে। সেই সময়ও অতিরিক্ত আশাবাদ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মূল্যকে অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল, যার পর বড় ধরনের ধস নামে।

তবুও অনেক ফান্ড ম্যানেজারের মতে, বর্তমান AI উত্থান আগের প্রযুক্তি বাবল থেকে আলাদা। কারণ এবার বাজারের নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যেই বিপুল মুনাফা করছে এবং বিশাল নগদ প্রবাহ তৈরি করছে।

উদাহরণ হিসেবে NVIDIA ও Microsoft শুধু বড় আয়ই করছে না, একই সঙ্গে AI অবকাঠামো, ডাটা সেন্টার এবং সফটওয়্যার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগও করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়ান বিনিয়োগকারীরা ওয়াল স্ট্রিটমুখী হওয়ার আরেকটি বড় কারণ হলো অস্ট্রেলিয়ার শেয়ারবাজারে AI-নেতৃত্বাধীন প্রযুক্তি কোম্পানির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। দেশটির বাজার এখনও মূলত খনিজ ও সম্পদনির্ভর কোম্পানিগুলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল।

ফলে অনেক বিনিয়োগকারী আশঙ্কা করছেন, AI বিপ্লব থেকে দূরে থাকলে তারা ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সুযোগ হারাতে পারেন।

অন্যদিকে আর্থিক পরামর্শকরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র AI-নির্ভর বিনিয়োগে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ এই খাত সুদের হার পরিবর্তন, সরকারি নিয়ন্ত্রণ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বা করপোরেট AI ব্যয় কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, স্বল্পমেয়াদে বাজারে ওঠানামা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে AI-এর সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা মনে করেন, আগামী দশকে AI উৎপাদনশীলতা বাড়াবে এবং নতুন নতুন শিল্পখাত তৈরি করবে।

বিশ্ববাজারে এখন একদিকে AI প্রযুক্তি ঘিরে প্রবল আশাবাদ, অন্যদিকে অতিরিক্ত বিনিয়োগ উন্মাদনা নিয়ে শঙ্কা—এই দুইয়ের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। তবে আপাতত অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে বাজার ধসের ভয় নয়, বরং AI বিপ্লব থেকে পিছিয়ে পড়ার ভয়টাই বেশি বড় হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here