যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের বদলে রোবট পাঠানো—এটি আর ভবিষ্যতের গল্প নয়, বাস্তবে ঘটছে ইউক্রেনে। সম্প্রতি একটি অভিযানে কোনো গুলি না ছুড়ে রুশ অবস্থান দখল করেছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর রোবট ইউনিট। এই ঘটনা যুদ্ধের চিত্র পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেন সরকারের পরিকল্পনা অনুসারে, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ২৫ হাজার গ্রাউন্ড রোবট মোতায়েন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা এক লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর তৃতীয় অ্যাসল্ট ব্রিগেডসহ বিভিন্ন ইউনিট ইতোমধ্যে হাজার হাজার রোবট মিশন সম্পন্ন করেছে। গত তিন মাসে ২২ হাজারেরও বেশি মিশন চালানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে ৯ হাজার মিশন। এসব রোবট সরবরাহ পরিবহন, আহত সৈন্য উদ্ধার, গুপ্তচরবৃত্তি এবং এমনকি সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অবস্থান দখলে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, ‘রোবট রক্তপাত করে না’—এই স্লোগান এখন যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তবতা। এতে সৈন্যদের প্রাণহানি কমানো সম্ভব হচ্ছে এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকিও হ্রাস পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে। ইতোমধ্যে রোবটগুলো দিয়ে সম্পূর্ণ অটোমেটেড অ্যাসল্ট চালানো হয়েছে, যা যুদ্ধের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটেছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুসারে, সামনের লাইনের লজিস্টিক্স ১০০ শতাংশ রোবটিক করে ফেলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এতে পদাতিক সৈন্যের সংখ্যা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোবট প্রযুক্তির এই ব্যবহার শুধু ইউক্রেন নয়, বিশ্বব্যাপী যুদ্ধকৌশলকে প্রভাবিত করছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর এনসি১৩ ইউনিটের মতো বিশেষায়িত দলগুলো এখন রোবট ও ড্রোনের সমন্বয়ে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির সঙ্গে নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নও উঠছে। যাই হোক, বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে মানবিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এই পথকেই বেছে নিয়েছে।










