জ্বালানি তেলের দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশে আরও পাঁচটি ডিজেলবাহী জাহাজ আসছে। বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) এর উদ্যোগে সরবরাহ বাড়ানোর এই প্রচেষ্টায় চলতি সপ্তাহে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং ৩২ হাজার টন জেট ফুয়েল আসবে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে যেখানে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এসেছিল, সেখানে এই সপ্তাহে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সোমবার সকালে ওমান থেকে ৩৫ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘গোল্ডেন হরাইজন’ নামক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। দুপুরের দিকে মালয়েশিয়া থেকে আরও ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘এফপিএমসি’ জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। বিকেলে ভারত থেকে ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে ‘প্যাসিফিক ইনডিগো’ জাহাজ আসার কথা রয়েছে। বাকি দুটি জাহাজও শিগগিরই দেশের উপকূলে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই জাহাজগুলোর আগমনের ফলে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
দেশে জ্বালানি তেলের সংকট চলমান অবস্থায় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে পেট্রল পাম্পে গাড়ি ও যানবাহনের লাইন দেখা যাচ্ছিল। সম্প্রতি দাম বৃদ্ধির পরও সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাহাজগুলোর কার্গো নামানোর পর দ্রুত বিতরণ ব্যবস্থা চালু করা হবে যাতে বাজারে তেলের সংকট আর না থাকে।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প, পরিবহন ও কৃষি খাতে। ডিজেলের অভাবে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, যা পণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে। সরকারের এই উদ্যোগ শুধু সরবরাহ বাড়ানো নয়, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের উত্থান-পতনের মধ্যেও এই আমদানি সময়োপযোগী। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ সব জাহাজের কার্গো খালাসের পর পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এতে করে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা যায়।










