অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সভাপতির পদকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডাউনারের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলের ভেতরে ক্ষমতার ভারসাম্য, আদর্শিক অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সাবেক লিবারেল নেতা আলেকজান্ডার ডাউনার সম্প্রতি টনি অ্যাবটকে কটাক্ষ করে বলেন, দলের সভাপতির পদ কোনো নীতিনির্ধারণী বা রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব। যদিও তিনি সরাসরি অ্যাবটের নাম উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মন্তব্যটি স্পষ্টভাবেই অ্যাবটকে লক্ষ্য করেই করা হয়েছে।
টনি অ্যাবটের সমর্থকরা দাবি করছেন, আসন্ন ভোটে তিনি সহজেই লিবারেল পার্টির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১১৩ সদস্যের ফেডারেল কাউন্সিলের মধ্যে প্রায় ৭০ ভোট ইতোমধ্যেই অ্যাবটের পক্ষে নিশ্চিত হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেলরও অ্যাবটকে সমর্থন করছেন বলে জানা গেছে। তার ধারণা, অ্যাবট দলের হারানো সমর্থন, অর্থ ও স্বেচ্ছাসেবক শক্তি পুনরুদ্ধারে নতুন উদ্দীপনা যোগ করতে পারবেন।
সম্প্রতি লিবারেল পার্টি ডানপন্থী দল ওয়ান নেশনের কাছে ভোট হারাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অ্যাবটের মতো শক্তিশালী ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব দলের সংগঠনে নতুন প্রাণ সঞ্চার করতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেক রক্ষণশীল নেতা।
অন্যদিকে, দলের মধ্যপন্থী অংশ ডাউনারকে বেশি গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছে। তাদের আশঙ্কা, টনি অ্যাবট সভাপতি হলে দলকে আরও ডানদিকে নিয়ে যেতে পারেন এবং তার বড় মিডিয়া উপস্থিতি বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। কিছু সাংসদ এমনও মন্তব্য করেছেন যে, অ্যাবট “ছায়া বিরোধীদলীয় নেতা” হয়ে উঠতে পারেন।
ডাউনার স্কাই নিউজকে বলেন, “আমি যদি এই পদে যাই, তাহলে নির্দিষ্ট কোনো নীতি প্রচারের জন্য যাব না।” তার মতে, সভাপতির কাজ হলো সংগঠনকে শক্তিশালী করা, কোনো আদর্শিক যুদ্ধ চালানো নয়।
এদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ডের সমর্থন নিয়ে জল্পনা থাকলেও তিনি প্রকাশ্যে কোনো পক্ষ নেননি। তিনি বলেন, “দুজনই ভালো কাজ করতে পারবেন। তারা দুজনই আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তাই আমি কারও পক্ষ নিচ্ছি না।”
লেবার পার্টি অবশ্য অ্যাবটের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে দেখছে। এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী মজা করে বলেন, “এটা যেন আমাদের দলে পল কিটিংকে প্রেসিডেন্ট বানানোর মতো ঘটনা।”
টনি অ্যাবট নিজেও এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি দলীয় নেতা ও সভাপতির আলাদা ভূমিকা বুঝেন এবং তার মূল লক্ষ্য হবে অ্যাঙ্গাস টেলরকে অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করা।
বর্তমানে লিবারেল পার্টি বড় ধরনের সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের ফেডারেল ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু হার্স্ট পদত্যাগ করছেন, ফলে নতুন নেতৃত্বকে সংগঠন পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে।
বিশেষ করে ফ্যারার উপনির্বাচনে সম্ভাব্য খারাপ ফলাফল নিয়ে দল উদ্বিগ্ন। এই অবস্থায় অ্যাবটের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে সামনে আনার পরিকল্পনা দলকে নতুন দিক দিতে পারে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।










