Home জীবনযাপন Health যক্ষ্মা ভেবে চিকিৎসা, পরে ধরা পড়ল লিভারের বিরল সংক্রমণ

যক্ষ্মা ভেবে চিকিৎসা, পরে ধরা পড়ল লিভারের বিরল সংক্রমণ

24
0

একজন ৪২ বছর বয়সী ব্যক্তি দীর্ঘদিনের কাশি, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, রাতের ঘাম এবং ডান পাশের ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমার মতো গুরুতর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। শুরুতে চিকিৎসকদের সন্দেহ ছিল তিনি হয়তো Tuberculosis বা যক্ষ্মায় আক্রান্ত। তবে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সামনে আসে এক বিরল ও জটিল রোগের চিত্র—লিভারে তৈরি হওয়া সংক্রমিত সিস্ট বা ফোঁড়া ফেটে ফুসফুসের পাশে ছড়িয়ে পড়েছে, যা শেষ পর্যন্ত Klebsiella pneumoniae infection জনিত লিভার অ্যাবসেস হিসেবে শনাক্ত হয়।

রোগীর উপসর্গ যক্ষ্মার সঙ্গে মিল থাকলেও ফুসফুস থেকে সংগ্রহ করা তরলের পরীক্ষায় চিকিৎসকরা ভিন্ন ইঙ্গিত পান। তরলে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কম, এলডিএইচ (LDH) অত্যন্ত বেশি এবং নিউট্রোফিল কোষের আধিক্য পাওয়া যায়, যা সাধারণত গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের লক্ষণ। অন্যদিকে যক্ষ্মায় সাধারণত লিম্ফোসাইট কোষের আধিক্য দেখা যায়। এছাড়া যক্ষ্মা শনাক্তের জন্য করা AFB smear ও PCR পরীক্ষাও নেগেটিভ আসে।

এরপর কনট্রাস্ট সিটি স্ক্যান করলে চিকিৎসকরা লিভারের ডান অংশে প্রায় ১২.৫ × ৯ সেন্টিমিটার আকারের বহু-কক্ষবিশিষ্ট সিস্ট দেখতে পান। এটি ডায়াফ্রামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল এবং পরে ফেটে গিয়ে ফুসফুসের পাশের অংশে সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয়। এই অবস্থাকে hepatopleural fistula বলা হয়, যেখানে লিভার ও ফুসফুসের মাঝখানে অস্বাভাবিক সংযোগ তৈরি হয়।

পরে লিভার থেকে তরল সংগ্রহ করে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সংক্রমণের মূল কারণ ছিল Klebsiella pneumoniae ব্যাকটেরিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সংক্রমণ বিশেষ করে এশীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা যায় এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ, কারণ অনেক সময় যক্ষ্মার মতো উপসর্গ থাকলেও প্রকৃত কারণ শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের সংক্রমণ হতে পারে। লিভার ও ডায়াফ্রামের ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে সংক্রমণ সহজেই ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়ে, যা অনেক ক্ষেত্রেই প্রথমে ধরা পড়ে না।

চিকিৎসার অংশ হিসেবে রোগীকে দুই সপ্তাহ ধরে Ceftriaxone অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এতে লিভারের ফোঁড়ার আকার কিছুটা কমে আসে। যদিও চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছিলেন, রোগী তা গ্রহণ না করে পরবর্তী ফলো-আপ চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা চিকিৎসকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা—যখন যক্ষ্মার মতো উপসর্গ থাকলেও পরীক্ষার ফল মিলছে না, তখন বিকল্প ও বিরল সংক্রমণের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here