যুক্তরাষ্ট্রের মালবাহী পরিবহন খাতে ট্রাক পার্কিং সংকট মোকাবিলায় এবার ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি। দেশটির ডেট্রয়েটে নতুন একটি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ চালু হয়েছে, যেখানে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন ব্যবহার করে রিয়েল-টাইমে ট্রাক পার্কিং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
Birdstop নামের মিশিগানভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং ডেট্রয়েটের ট্রাক পার্কিং ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান TSPS যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এই উদ্যোগে Birdstop-এর স্বয়ংক্রিয় “Fealty” ড্রোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আকাশপথ থেকে ট্রাক পার্কিং এলাকাগুলোর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করবে।
এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোন জায়গায় ট্রাক পার্ক করা আছে এবং কোথায় খালি জায়গা রয়েছে তা শনাক্ত করতে পারবে।
পরবর্তীতে এই তথ্য TSPS-এর ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে, যাতে ট্রাক চালক ও লজিস্টিক কোম্পানিগুলো রিয়েল-টাইমে জানতে পারেন কোথায় খালি পার্কিং স্পেস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাক পার্কিং সংকট বর্তমানে আমেরিকার ট্রাকিং শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা। নিরাপদ পার্কিং খুঁজতে চালকদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়, যা ক্লান্তি, জ্বালানি অপচয়, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব এবং সড়ক নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ট্রাকিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই খাত লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভিত্তিগুলোর একটি হিসেবে কাজ করছে।
তবে এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ মালবাহী রুটে আধুনিক রিয়েল-টাইম পার্কিং অবকাঠামো নেই।
TSPS-এর প্রধান নির্বাহী Carl Rundell বলেছেন, ড্রোনভিত্তিক এই প্রযুক্তি প্রচলিত স্থায়ী সেন্সর ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজে সম্প্রসারণযোগ্য।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় স্থায়ী সেন্সর বসানো ব্যয়বহুল বা জটিল, সেখানে এই প্রযুক্তি কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
Birdstop-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী Keith Miao বলেছেন, ট্রাকিং শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ এবং স্বয়ংক্রিয় ড্রোন প্রযুক্তি এই খাতকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলতে পারে।
এই পরীক্ষামূলক প্রকল্পে সহায়তা দিচ্ছে মিশিগানের Michigan Mobility Funding Platform। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবহনসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান NextEnergy, যা রাজ্যের Office of Future Mobility and Electrification-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
কর্মকর্তাদের মতে, ডেট্রয়েট এই প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য আদর্শ স্থান, কারণ এটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ব্যস্ত বাণিজ্যিক পরিবহন কেন্দ্রগুলোর একটি এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শুধু ট্রাক পার্কিং নয়, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি সড়ক পর্যবেক্ষণ, অবকাঠামো পরিদর্শন, জরুরি উদ্ধার অভিযান এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাসহ আরও বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প আসলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, ড্রোনভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা প্রচলিত স্থায়ী সেন্সরের তুলনায় কম খরচে এবং বেশি কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব কি না।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকবে।










