অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese সরকারের নতুন নেগেটিভ গিয়ারিং সংস্কারের মধ্যেই একটি অপ্রত্যাশিত ‘লুপহোল’ বা আইনি ফাঁক সামনে এসেছে, যা অনেক বাড়ির মালিককে ভবিষ্যতেও কর সুবিধা ধরে রাখার সুযোগ দিতে পারে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী সরকার ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শুধু নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রেই নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা সীমিত করতে চায়। অর্থাৎ, পুরোনো আবাসিক সম্পত্তি কিনে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ করলে আর আগের মতো কর ছাড় পাওয়া যাবে না। তবে সম্প্রতি ট্রেজারার Jim Chalmers স্পষ্ট করেছেন, যারা সংস্কার কার্যকর হওয়ার আগে নিজেদের বসবাসের জন্য বাড়ি কিনেছেন, তারা পরে সেই বাড়ি ভাড়া দিলেও পুরোনো কর সুবিধা ধরে রাখতে পারবেন।
এই ব্যাখ্যার পর অনেক অস্ট্রেলিয়ান বিস্মিত হয়েছেন। কারণ, সাধারণ ধারণা ছিল নতুন নিয়ম কেবল বিদ্যমান বিনিয়োগ সম্পত্তিকেই সুরক্ষা দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, আগে কেনা পারিবারিক বাড়িও ভবিষ্যতে ভাড়া সম্পত্তিতে রূপান্তর করা গেলে নেগেটিভ গিয়ারিংয়ের আওতায় থাকতে পারে।
এর মানে হলো—কোনো বাড়ির মালিক যদি নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকেন এবং বাড়িটি ভাড়ায় দেন, তাহলে ভাড়ার আয় দিয়ে যদি ঋণের সুদ, কাউন্সিল রেট, বীমা, স্ট্রাটা ফি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় পূরণ না হয়, তবে সেই ক্ষতি ব্যক্তিগত আয়ের বিপরীতে কর ছাড় হিসেবে দাবি করা যেতে পারে।
কর বিশেষজ্ঞ Ridhwan Hannan বলেছেন, উচ্চ সুদের হার ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা পরিবারগুলোর কাছে এই কৌশল দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। অনেক পরিবার হয়তো আর্থিক চাপে বাড়ি বিক্রি না করে সাময়িকভাবে অন্যত্র সরে গিয়ে নিজেদের বাড়ি ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত আয় করার পথ বেছে নেবে।
নেগেটিভ গিয়ারিং মূলত এমন একটি করব্যবস্থা, যেখানে বিনিয়োগ সম্পত্তি থেকে লোকসান হলে সেটি বেতন বা অন্যান্য আয়ের বিপরীতে সমন্বয় করা যায়। ফলে করযোগ্য আয় কমে যায় এবং করের চাপও হ্রাস পায়।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্কও করেছেন। শুধু কর ছাড় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বাড়ির ঋণ বাড়িয়ে ফেললে তা নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধার আওতায় পড়বে না। সাধারণত সম্পত্তি কেনার সময় নেওয়া মূল ঋণের ওপরই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স (CGT) সংক্রান্ত জটিলতাও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে কতদিন বাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং মালিক পরে নতুন আরেকটি বাড়িকে প্রধান আবাসন হিসেবে ঘোষণা করেন কি না—সেটির ওপর করের প্রভাব নির্ভর করবে।
এই আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার “সিক্স-ইয়ার রুল”। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজের বাড়ি ছেড়ে সেটি ছয় বছর পর্যন্ত ভাড়া দিতে পারেন এবং নির্দিষ্ট শর্তে সেই সময়েও মূল বাড়ির CGT ছাড় বজায় রাখতে পারেন—যদি ওই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো বাড়িকে প্রধান আবাসন হিসেবে ঘোষণা না করা হয়।
২০২৬ সালের ফেডারেল বাজেটের আওতায় সরকার অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি বিনিয়োগ করব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করেছে। নতুন নীতিতে ২০২৭ সালের পর থেকে পুরোনো আবাসিক সম্পত্তিতে বিনিয়োগকারীরা নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা পাবেন না। শুধু নতুন নির্মিত বাড়ি, যা আবাসন সরবরাহ বাড়াবে, সেগুলোর জন্য এই কর সুবিধা চালু থাকবে।
সরকারের দাবি, এসব সংস্কারের লক্ষ্য হলো প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের জন্য বাজারকে আরও ন্যায্য করা এবং নতুন আবাসন নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানো। তবে সমালোচকদের মতে, এত বেশি ব্যতিক্রম ও “গ্র্যান্ডফাদারিং” সুবিধা রাখায় বাস্তবে সম্পত্তি বাজারে এই সংস্কারের প্রভাব অনেকটাই সীমিত হয়ে যেতে পারে।
একই সঙ্গে সরকার ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিনের ৫০ শতাংশ CGT ডিসকাউন্ট তুলে দিয়ে নতুন মূল্যস্ফীতি-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সাল থেকে প্রকৃত মূলধনী মুনাফার ওপর ন্যূনতম ৩০ শতাংশ কর আরোপের কথাও বলা হয়েছে।
তবে পারিবারিক নিজস্ব বসবাসের বাড়ি এখনও CGT থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি পাবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিক সম্পত্তি ও শেয়ারবাজারে বিদ্যমান নেগেটিভ গিয়ারিং সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে।
পুরো বিষয়টি এখন অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে নতুন কৌশল, কর পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবণতা নিয়ে বড় বিতর্ক তৈরি করেছে।










