ডাচ পতাকাবাহী ক্রুজ জাহাজ MV Hondius-এ ছড়িয়ে পড়া বিরল Andes hantavirus সংক্রমণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে উপসর্গ শুরু হওয়ার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই সবচেয়ে বেশি সংক্রামক হয়ে ওঠে। ফলে সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এই প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে তিনজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া যাত্রীরা বিভিন্ন দেশে ফিরে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
WHO-এর মহামারি বিশ্লেষণ ও প্রতিক্রিয়া বিভাগের প্রধান Olivier Le Polain এক ব্রিফিংয়ে বলেন, রোগের একেবারে শুরুর সময়েই আক্রান্ত ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। এ কারণেই উপসর্গ প্রকাশের অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত আলাদা করা প্রয়োজন।
WHO জানিয়েছে, জাহাজটি টেনেরিফের কাছে পৌঁছানোর সময় যেসব প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য সেখানে ছিলেন, তাদের সবাইকে ছয় সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। কারণ, এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা সুপ্তকাল সর্বোচ্চ ৪২ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, Andes hantavirus হলো একমাত্র পরিচিত হ্যান্টাভাইরাস যা সীমিত পরিসরে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের তিন সপ্তাহ পর উপসর্গ দেখা দিলেও কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস দীর্ঘ সময় সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে।
প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতার মতোই দেখা যায়—যেমন ক্লান্তি, হালকা জ্বর ও শরীরব্যথা। তবে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি দ্রুত মারাত্মক শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় রূপ নিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় রোগটি “হ্যান্টাভাইরাস কার্ডিওপালমোনারি সিনড্রোম” সৃষ্টি করে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে।
WHO সতর্ক করেছে, দীর্ঘ সুপ্তকালের কারণে আগামী কয়েক দিন বা সপ্তাহেও নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হতে পারে। তাই সামান্য উপসর্গও গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং দ্রুত আক্রান্তদের আলাদা করে চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।
ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ক্রুজ জাহাজের পরিবেশও বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। WHO কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্ধ ও সীমিত জায়গায় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে বসবাস করায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে নিজেদের মতো করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। জার্মানি, ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড ও গ্রিস জাহাজ-সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জন্য ৪৫ দিনের কোয়ারেন্টিন চালু করেছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স তুলনামূলক কম সময়ের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়েছে, যদিও প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দেশে ফিরে যাওয়া ১৭ জন মার্কিন যাত্রীকে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে নাও রাখা হতে পারে। তবে WHO মহাপরিচালক Tedros Adhanom Ghebreyesus সতর্ক করে বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ বিরল হলেও এই ভাইরাসের মানবদেহে মারাত্মক প্রভাব এবং সীমিত মানব-থেকে-মানব সংক্রমণের সক্ষমতা নতুন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উদ্বেগ তৈরি করেছে।










