বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে দেশে ব্যাংক খাত সংকটে থাকলেও, তিনি মাত্র নয় মাসে ৬৫ দিনের বেশি সময় বিদেশ সফরে কাটিয়েছেন। এ নিয়ে অর্থনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা উঠেছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, লন্ডন, জিবুতি, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও দুবাইসহ মোট ৯টি দেশে সফর করেন। এসব সফরের মধ্যে কিছু ছিল আন্তর্জাতিক সম্মেলন, কিছু ছিল চিকিৎসা, আবার কিছু সফরের গুরুত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। পূর্ববর্তী কোনো গভর্নরের এত ঘনঘন বিদেশ সফরের নজির নেই।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, দেশের ব্যাংকিং খাত যখন আমানতকারীদের আস্থাহীনতায় ভুগছে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের এত ঘন বিদেশ সফর অগ্রহণযোগ্য। সফরের খরচ এসেছে সরকারি কোষাগার থেকে, অথচ এ সফরগুলোর সুনির্দিষ্ট ফলাফল সম্পর্কে জনসাধারণকে কিছু জানানো হয়নি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, গভর্নরের উদ্বেগমূলক বক্তব্য আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। “ব্যাংকের দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা বা সংকটের বার্তা একজন গভর্নরের কাছ থেকে আসা অনুচিত,”—বলেছেন তিনি।
গভর্নর যোগদানের পর থেকে ২৮৪ দিনের মধ্যে ১৫৬ দিন সরকারি ছুটি ও বিদেশ সফরে কাটিয়েছেন। ফলে অফিস করেছেন মাত্র ১২৮ দিন।
সম্প্রতি একাধিক সভা-সেমিনারে গভর্নর শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর সংকটের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ৬টি ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে দুটি শক্তিশালী ব্যাংকে পরিণত করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকে একে একতরফা মন্তব্য বলে মনে করছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্যাংক খাতের ভঙ্গুর অবস্থা ও আস্থার সংকট মোকাবিলায় গভর্নরের উচিত পরিমিত ও দায়িত্বশীল ভাষা ব্যবহার করা এবং জনসাধারণকে স্বচ্ছ বার্তা দেওয়া।
অন্যদিকে, কিছু অংশ মনে করে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গভর্নরের উপস্থিতি দেশের ভাবমূর্তি ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—এসব সফরের মাধ্যমে দেশের কী অর্জন হয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে কতটা অগ্রগতি হয়েছে, কিংবা কোন চুক্তি হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সফর নয়—সফরের কার্যকর ফলাফল ও স্বচ্ছতা এখন সময়ের দাবি।










