Home বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাসেবা রক্ষায় জরুরি তহবিল চাইল ইউনিসেফ

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাসেবা রক্ষায় জরুরি তহবিল চাইল ইউনিসেফ

171
0

বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুর শিক্ষাজীবন বর্তমানে বড় সংকটে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, টেকসই অর্থায়নের অভাবে এই শিশুদের মৌলিক শিক্ষাসেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

শনিবার (৩১ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংগৃহীত সহায়তা তহবিলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার ফলে কক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরে পরিচালিত তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পড়াশোনা করা শিশুদের প্রায় ৮৩ শতাংশ এই সংকটের প্রভাবের মুখে পড়েছে।

বর্তমানে ইউনিসেফ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের সহায়তা স্থগিত করা, যাদের অনেকেই স্থানীয় জনগোষ্ঠী থেকে আসা। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক হাজার ১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগী সংস্থাগুলোর চুক্তি শেষ হবে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “এই শিশুরা বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবহেলিত শিশুদের অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষাসেবা চালু রাখতে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি, তবে নতুন অর্থায়নের অভাবে শিক্ষা কেন্দ্রগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। যদি জরুরি তহবিল না আসে, তবে একটি সম্পূর্ণ প্রজন্ম শিক্ষাবঞ্চিত হয়ে পড়বে।”

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের ছুটির সঙ্গে মিলিয়ে শিক্ষা কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে এবং অন্তত ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তা চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি, বিজ্ঞান ও সামাজিক শিক্ষা বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সাক্ষরতা, বার্মিজ ভাষা, গণিত ও জীবনদক্ষতার মতো মৌলিক বিষয়ে পাঠদান চলবে। নতুন বই বা নির্দেশনামূলক সামগ্রীও কেনা হবে না; পুরোনো বই-ই পুনঃব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে।

বছরশেষের মূল্যায়ন এবং শ্রেণি নির্ধারণী পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকরা এ সময় কোনো বেতন পাবেন না, শুধুমাত্র স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

তহবিল সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফ নিজস্ব কর্মীর সংখ্যাও কমিয়ে এনেছে এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী ও কার্যকর কর্মসূচিগুলো টিকিয়ে রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

ইউনিসেফ জোর দিয়ে বলেছে, শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি শিশুদের মৌলিক অধিকার। শরণার্থী শিশুদের সুরক্ষা, মানসিক স্থিতি এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি নতুন করে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, বর্তমান বিনিয়োগ বৃদ্ধি না পেলে তারা এই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here