মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লিভারপুল ও পর্তুগাল জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড দিয়েগো জোটা। বৃহস্পতিবার ভোরে স্পেনের জামোরা অঞ্চলের সেরনাদিল্লা শহরের কাছে এ-৫২ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনায় তার ছোট ভাই আন্দ্রে সিলভাও নিহত হন।
স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কা জানিয়েছে, জোটা ও তার ভাই একটি ল্যাম্বোরগিনি গাড়িতে যাচ্ছিলেন, যখন গাড়িটির টায়ার বিস্ফোরণের পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায়। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৩০ মিনিটে ঘটে এই দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা দুই ভাইয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, উল্টে থাকা গাড়িটি আগুনে পুড়ে গেছে, যা ইতোমধ্যে স্পেনের গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনার মাত্র দশ দিন আগে শৈশবের প্রেমিকা রুট কার্দোসোকে বিয়ে করেছিলেন জোটা, এবং তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের আগের দিন ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন একটি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, “এটা এমন একটি দিন, যা আমরা কখনো ভুলব না।” রুট বলেছিলেন, “আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে,” এবং জোটা উত্তর দিয়েছিলেন, “আমি-ই ভাগ্যবান।” কিন্তু কে জানত, এই শুভ মুহূর্তের সমাপ্তি হবে এত করুণ!
জোটা পোর্তোয় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ক্যারিয়ার শুরু করেন পাসোস দে ফেরেইরার যুব একাডেমিতে। পরে তিনি আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেন এবং ২০১৭ সালে ইংলিশ ক্লাব উলভারহ্যাম্পটনে পাড়ি দেন। ২০২০ সালে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডে লিভারপুলে যোগ দেন তিনি। লিভারপুলের হয়ে এফএ কাপ, লিগ কাপ এবং সর্বশেষ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে প্রায় ৫০টি ম্যাচ খেলেছেন, এবং ইউরোপিয়ান নেশন্স লিগও জিতেছেন।
এদিকে, তার ভাই আন্দ্রে সিলভা পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব পেনাফিয়েলের হয়ে খেলতেন।
দিয়েগো জোটার মৃত্যুর খবর পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিত করেছে। ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো এক বিবৃতিতে বলেন, “দিয়েগো জোটা শুধু অসাধারণ খেলোয়াড়ই ছিলেন না, তিনি একজন অনন্য মানুষও ছিলেন।”
ফেডারেশন আরও জানিয়েছে, ইউরোপিয়ান নারী চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী জাতীয় দলের ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালনের জন্য উয়েফাকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এই অকাল মৃত্যুর ফলে ফুটবলবিশ্ব হারাল এক প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে, এবং ভেঙে গেল একটি সুখী পরিবার।










