জয়ের জন্য তখন কেবল একটি উইকেটের দরকার ছিল। উইকেটে টার্ন মিলছিল, স্পিনাররাও ভালো বোলিং করছিলেন। তবুও ৮০ ওভারের শেষে নতুন বল নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম। সেই বল তুলে দেন পেসার জ্যাকব ডাফির হাতে, যার সামনে তখন ছিল পাঁচ উইকেট পূর্ণ করার হাতছানি।
আর সেই কাজটা তিনি সারেন মাত্র তিন বলেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ ব্যাটসম্যানকে ফেরান ডাফি, নিশ্চিত করেন নিউজিল্যান্ডের ৩২৩ রানের বিশাল জয় এবং নিজের ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কীর্তি। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে পাওয়া এই জয় রানের ব্যবধানে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে কিউইদের সর্বকালের সর্ববৃহৎ টেস্ট জয়।
সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ড্র করলেও পরের দুই ম্যাচেই শেষ ইনিংসে ব্যাটিং ধসের মুখে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় টেস্টে ১২৮ রানে অলআউট হওয়ার পর শেষ ম্যাচে থামে মাত্র ১৩৮ রানে।
ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।
এই টেস্টে ৪২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন ডাফি, আর পুরো সিরিজে তার সংগ্রহ ২৩ উইকেট—যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কোনো কিউই বোলারের এক সিরিজে সর্বোচ্চ। আগের রেকর্ড ছিল ২০১৩ সালে ট্রেন্ট বোল্টের ২০ উইকেট।
এই ম্যাচে আরও একটি বড় রেকর্ড নিজের করে নেন ডাফি। ২০২৫ সালের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১, যা এক পঞ্জিকাবর্ষে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ। ১৯৮৫ সালে স্যার রিচার্ড হ্যাডলি ২৩ ম্যাচে নিয়েছিলেন ৭৯ উইকেট—ডাফি এই রেকর্ড ভাঙেন ৩৬ ম্যাচ খেলে।
বে ওভালে টেস্টের শেষ দিন ড্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং মিলে দিনের শুরুতে ১৬ ওভার টিকেও যান। ৬৩ বলে ফিফটি করেন কিং, মারেন ১০টি বাউন্ডারি।
তবে সেই জুটিতে ছেদ টানেন ডাফি, শর্ট বলে ৬৩ রানে ফেরান কিংকে। পরের ওভারেই এজাজ প্যাটেল বিদায় করেন ১৬ রান করা ক্যাম্পবেলকে। এরপর ধসে পড়ে ক্যারিবিয়ান ইনিংস, পাঁচ ব্যাটারই ৫ রানের কোটা পেরোতে পারেননি।
অধিনায়ক রস্টন চেইস ফেরেন ৫ রানে। টেস্টে তার নেতৃত্বে ১৬ ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি, ব্যাটিং গড়ও খুবই নিচু। টেভিন ইমলাখ কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও (৯০ বলে অপরাজিত ১৫), শেষ পর্যন্ত তিনি রক্ষা করতে পারেননি দলকে। দশ নম্বরে নামা অ্যান্ডারসন ফিলিপও এক ঘণ্টা টিকে ১০ রান করেন।
অন্যদিকে ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন ডেভন কনওয়ে। ম্যাচে একটি ডাবল সেঞ্চুরি ও একটি শতক করে ম্যাচসেরা হন তিনি। আর গোটা সিরিজে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য সিরিজসেরা নির্বাচিত হন ডাফি।
এই সিরিজ দিয়েই নিউজিল্যান্ড শুরু করল নতুন আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র। তিন ম্যাচে দুটি জয় নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে ভালোভাবেই। বিপরীতে আট ম্যাচে সাত হার ও একটি ড্র নিয়ে পয়েন্ট তালিকার একেবারে নিচে অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।










