Home এশিয়া পেসিফিক উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

179
0

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করেছেন, দেশের মানুষ অনেক বছর পর একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনার সিউসান রাইলের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাতে উভয়পক্ষ অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা, আসন্ন নির্বাচন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

ড. ইউনূস ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করায় অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান। সিউসান রাইল জানান, এখন থেকে ভিসার আবেদন অনলাইনে করা যাবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ৬৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি এবং প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।

সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টা তুলে ধরে ইউনূস বলেন, “আমরা অস্থির সময় পার করে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সাংবিধানিক, বিচারিক এবং প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করতে চাই। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে শান্তিপূর্ণ রূপান্তর নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”

তিনি জানান, আগামী মাসে ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের বার্ষিকীতে ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশ করা হবে।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক বছর পর সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নতুন ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ পাবে। এটি হবে এক উৎসবমুখর ও আশাব্যঞ্জক উপলক্ষ।”

নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অস্ট্রেলিয়া ইউএনডিপির মাধ্যমে ২০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

বাণিজ্য বিষয়ে সিউসান রাইল জানান, দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য ১৬.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৫ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারে পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস প্রোগ্রামের আওতায় ৩ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অ্যালামনাই তৈরি হয়েছে, যারা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

ড. ইউনূস বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বৃত্তির আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গার জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানো জরুরি।”

জবাবে রাইল জানান, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া অতিরিক্ত ৯.৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার সহায়তা দিয়েছে। এ নিয়ে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মোট সহায়তা দাঁড়ালো ৫৫৩.৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।

তিনি আশ্বাস দেন, মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হলে অস্ট্রেলিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশে দায়িত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাইল বলেন, “বাংলাদেশের প্রাণবন্ত সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরেই আমাকে মুগ্ধ করে এসেছে।”

সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় উইংয়ের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নুরে আলম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here