অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ নারী যাত্রী কাতার এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগে মামলা করার অনুমতি পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দেশটির ফেডারেল কোর্টের বিচারপতি অ্যাঙ্গাস স্টুয়ার্ট এই রায় দেন, যা পূর্ববর্তী এক রায়কে বাতিল করে দিয়েছে।
ঘটনাটি ২০২০ সালের অক্টোবরে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে। কাতারগামী একটি ফ্লাইট থেকে এক ডজনেরও বেশি নারী যাত্রীকে জোরপূর্বক নামিয়ে এনে অ্যাম্বুলেন্সে তল্লাশি চালানো হয়। বিমানবন্দরের বাথরুমে একটি নবজাতক শিশুকে জীবিত অবস্থায় পরিত্যক্ত পাওয়া গেলে, তার মা খুঁজে বের করতে কাতারি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। তবে চার নারীকে সম্মতি ছাড়া খোলামেলাভাবে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে তিনটি ছিল আক্রমণাত্মক প্রকৃতির।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত নারীরা কাতার এয়ারওয়েজ গ্রুপ, কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটি এবং বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান মাতার-এর বিরুদ্ধে অবহেলা, অবৈধ আটক, শারীরিক নির্যাতন ও হামলার অভিযোগে মামলা করেন।
২০২৩ সালে আদালতের একটি রায়ে বলা হয়, কাতার এয়ারওয়েজ এই ঘটনার জন্য দায়ী নয়, কারণ ঘটনাটি কাতার পুলিশের অধীনে পরিচালিত হয় এবং এয়ারলাইন কর্মীদের এতে কোনো সরাসরি ভূমিকা ছিল না। তবে বিচারপতি স্টুয়ার্ট বলেন, এই সিদ্ধান্ত ছিল ভুল এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার ছাড়া দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে নারীদের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা “যাত্রী ওঠা বা নামার প্রক্রিয়ার অংশ” ছিল না বলে এককথায় বলা যায় না, এবং বিষয়টি সারসংক্ষেপ নয়, পূর্ণাঙ্গ বিচারে বিবেচনা করা উচিত। তিনি আরও বলেন, যিনি নারীদের পরীক্ষা করেছিলেন তিনি মাতার-এর কর্মী ছিলেন কি না, সেটাও আদালতে প্রমাণ করতে হবে। ফলে মাতার কর্তৃপক্ষের দায় অস্বীকারও এখনই গ্রহণযোগ্য নয়।
এছাড়া, আদালত কাতার এয়ারওয়েজ ও মাতারকে মামলার আপিল খরচ বহনের নির্দেশ দিয়েছে। তবে কাতার সিভিল এভিয়েশন অথরিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করা হয়েছে, কারণ এটি কাতার রাষ্ট্রের সার্বভৌম দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
এই মামলার রায় কাতার ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা, বিশেষ করে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর মানবাধিকার উদ্বেগের পটভূমিতে।










