Home বাংলাদেশ National যুগ্ম সচিবকে গাড়িতে জিম্মি করে টাকা দাবি, চালক আটক

যুগ্ম সচিবকে গাড়িতে জিম্মি করে টাকা দাবি, চালক আটক

130
0

সরকারের একজন যুগ্ম সচিবকে সরকারি গাড়ির ভেতরে প্রায় চার ঘণ্টা জিম্মি করে রেখে ছয় লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগে তাঁরই গাড়িচালককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের যুগ্ম সচিব মাকসুদা হোসেনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরান তাঁর গাড়িচালক আবদুল আউয়াল (৪০)। দুপুরের দিকে পরিকল্পনা কমিশনে পৌঁছালে সেখানে তাঁকে আটক করা হয়। পরে আবদুল আউয়ালকে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

ঘটনার বর্ণনায় মাকসুদা হোসেন জানান, সকাল সোয়া আটটার দিকে তিনি ধানমন্ডির বাসা থেকে সরকারি গাড়িতে করে শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্দেশে রওনা দেন। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে এসে চালক গাড়িটি কমিশনের দিকে না নিয়ে বিজয় সরণির দিকে চালাতে থাকেন। গাড়ি কেন অন্যদিকে নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে চালক কোনো জবাব দেননি।

এরপর মহাখালী ও বনানী হয়ে বিমানবন্দর সড়কের দিকে গাড়ি চালাতে থাকেন আবদুল আউয়াল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মাকসুদা হোসেন এক সহকর্মীকে বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিতে গেলে চালক জোর করে তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেন এবং গাড়ির দরজা লক করে দেন।

পরে গাড়িটি উত্তরার দিয়াবাড়ি, বেড়িবাঁধ হয়ে সাভারের হেমায়েতপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আবার ঘুরিয়ে দারুস সালামসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে গাড়িটি পরিকল্পনা কমিশনের সামনে আসে।

মাকসুদা হোসেন জানান, গাড়ি কেন এভাবে ঘোরানো হচ্ছে এবং কেন তাকে জিম্মি করা হয়েছে—এসব প্রশ্ন করলেও চালক কোনো উত্তর দেননি। একপর্যায়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের মাঠে গাড়ি থামিয়ে চালক তার মায়ের চিকিৎসার জন্য ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ারও চাপ দেন তিনি। তখন যুগ্ম সচিব জানান, তার কাছে ওই মুহূর্তে টাকা নেই, অফিসে গেলে দেওয়া যেতে পারে। পরে চালক তাকে পরিকল্পনা কমিশনের ভেতরে নিয়ে এলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে।

এদিকে একজন যুগ্ম সচিবকে জিম্মি করার খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গাড়িটির অবস্থান ট্র্যাক করতে থাকে।

নিজ দপ্তরে ফিরে মাকসুদা হোসেন বলেন, চালকের অর্থের প্রয়োজন হলে তিনি চাইতে পারতেন। কিন্তু তাকে জিম্মি করে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দীর্ঘ চার ঘণ্টা ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ঘোরানোর কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। এ ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here