ইরানের সংসদ (মজলিস) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টারলিংকসহ অন্যান্য অনুমোদনহীন ইন্টারনেট ডিভাইস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে, ইসরায়েল বা শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা ‘পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর জন্য মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করা হয়েছে।
ইরানের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল “জামে জামে অনলাইন” এ আজ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গত ২৩ জুন জাতীয় সংসদের এক উন্মুক্ত অধিবেশনে ইসরায়েল এবং অন্যান্য শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা বা অপারেশনাল সহযোগিতা বিষয়ে আইনটির খসড়া এবং বিস্তারিত অংশ পাস করা হয়। আইনের মূল ধারাগুলি হল:
ধারা-১: ইসরায়েল বা শত্রু রাষ্ট্রগুলোর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি বা অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা ‘দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি’ হিসেবে গণ্য হবে এবং ইসলামি দণ্ডবিধি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হবে।
ধারা-২: ইসরায়েলকে সমর্থন বা শক্তিশালী করতে নিরাপত্তা, সামরিক, অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করলে ‘দেশে বিপর্যয় সৃষ্টি’ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকবে।
ধারা-৩: অস্ত্র, বিস্ফোরক বা ড্রোন তৈরির সহায়তা, সাইবার হামলা বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা করার মতো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে তা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির আওতায় আসবে।
ধারা-৪: মিথ্যা সংবাদ প্রচার, বিদেশি মাধ্যমে ছবি-ভিডিও পাঠানো বা যুদ্ধকালে অবৈধ সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ধারা-৫: স্টারলিংকসহ অনুমোদনহীন ইন্টারনেট ডিভাইস ব্যবহার, আমদানি বা বেচাকেনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের কারাদণ্ড এবং ডিভাইস জব্দের ব্যবস্থা রয়েছে।
ধারা-৬: জরুরি নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই আইন অনুযায়ী শাস্তি আরও কঠোর করা যাবে।
ধারা-৭: এই আইনভুক্ত অপরাধের বিচার বিশেষ আদালতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হবে।
ধারা-৮: ২০১৮ সালের অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত অনুমোদন এই আইনে প্রযোজ্য থাকবে।
ধারা-৯: আইনটি পাসের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে এবং পূর্ববর্তী অপরাধীদের জন্যও তা প্রযোজ্য হবে যদি তারা তিন দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করে।
এই আইনটি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিদেশি গোয়েন্দা কার্যক্রম ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।











